মে মাসের ১০ সিনেমা, যা থাকছে আলোচনায়

সংগৃহীত ছবি
মে মাসের গরমের দুপুর কিংবা অলস সন্ধ্যায় এক কাপ চা হাতে বসে নতুন গল্পে ডুবে যাওয়ার এই সময়টাই যেন সবচেয়ে উপভোগ্য। বড় পর্দায় ফিরছে পুরোনো প্রিয় চরিত্র, সঙ্গে থাকছে একেবারে নতুন কিছু গল্প যেগুলো কখনো আপনাকে হাসাবে, কখনো ভাবাবে, আবার কখনো নিঃশব্দে ছুঁয়ে যাবে মন।
সায়েন্স ফিকশনের রোমাঞ্চ, অ্যানিমেশনের রঙিন দুনিয়া, মিউজিকের আবেগ কিংবা হররের শিহরণ সব মিলিয়ে মে মাস যেন সিনেমার এক পরিপূর্ণ উৎসব। তাই দেরি না করে, চলুন চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক এই মাসে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এমন ১০টি সিনেমার দিকে, যেগুলো সহজেই জায়গা করে নিতে পারে আপনার ওয়াচলিস্টে।
১. অ্যানিম্যাল ফার্ম
অ্যান্ডি সারকিস এই সিনেমার জন্য ব্যবহার করেছেন আধুনিক 'মোশন ক্যাপচার' প্রযুক্তি। তবে জর্জ অরওয়েলের মূল উপন্যাসের মতো এটি একদমই গুরুগম্ভীর নয়। সেথ রজেন তার স্বভাবজাত হাসির ছলে 'নেপোলিয়ন' চরিত্রটিকে এক অদ্ভুত মাত্রা দিয়েছেন। রাজনীতির মারপ্যাঁচকে কার্টুন আকারে দেখানোর এই সাহসী চেষ্টা বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও ভাবাবে।
২. দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২
বিশ বছর আগের সেই দাপুটে বস মিরান্ডা প্রিস্টলি এখন একটু কোণঠাসা। মুদ্রণ মাধ্যমের ব্যবসা এখন মন্দা, তাই ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে তিনি লড়াই করছেন। মজার ব্যাপার হলো, এবারের গল্পে সেই পুরোনো সহকারী এমিলি ব্লান্ট এখন অনেক বড় পজিশনে, যার সাহায্য নিতে মিরান্ডা বাধ্য হচ্ছেন। গ্ল্যামার আর ইগোর লড়াই এখানে তুঙ্গে।
৩. স্টার ওয়ার্স: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু
ডিজনি প্লাসের ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসার জন্য সিনেমাটির বাজেট বাড়ানো হয়েছে বহুগুণ। পরিচালক জন ফ্যাব্রিউ কথা দিয়েছেন, আইম্যাক্স স্ক্রিনে দর্শকদের মনে হবে তারা নিজেরাই মহাকাশযানে বসে আছেন। বেবি ইয়োডা বা গ্রোগুর জাদুকরী শক্তির আরও নতুন কিছু ঝলক দেখা যাবে এই সিনেমায়।
৪. দ্য শিপ ডিটেকটিভস
সিনেমাটি আসলে গ্লেন কিলার্ন এর বেস্টসেলার বই ‘থ্রি ক্যান্ডেলস’ অবলম্বনে তৈরি। হিউ জ্যাকম্যানের মেষপালক চরিত্রটি মারা যাওয়ার পর প্রতিটি ভেড়া তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য (যেমন একজন খুব সাহসী, একজন খুব বুদ্ধিমান) ব্যবহার করে গোয়েন্দাগিরি করে। এটি যেমন মজার, তেমনই এর রহস্যের জাল বেশ জটিল।
৫. টু পিয়ানোস
ফরাসি সিনেমা মানেই একটু ধীর গতির আর গভীর আবেগের। এখানে পিয়ানোর প্রতিটি সুর গল্পের মোড় বদলে দেয়। ম্যাথিয়াস যখন জাপানের আধুনিক জীবন ছেড়ে ফ্রান্সের সেই পুরোনো গ্রামে ফেরে, তার স্মৃতির দহন দর্শকদের চোখে পানি নিয়ে আসবে। মিউজিক লাভারদের জন্য এটি মে মাসের সেরা উপহার।
৬. রিমার্কেবলি ব্রাইট ক্রিয়েচারস
পরিচালক অলিভিয়া নিউম্যান দেখিয়েছেন যে একাকিত্ব কাটাতে একটি অক্টোপাসও মানুষের সেরা বন্ধু হতে পারে। অক্টোপাস ‘মারসেলাস’ এর চরিত্রে আলফ্রেড মলিনার গলার স্বর সিনেমাটিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি এমন একটি গল্প যা শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ মনের মধ্যে রেশ থেকে যায়।
৭. বিলি আইলিশ: হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর
জেমস ক্যামেরন এই সিনেমার জন্য ব্যবহার করেছেন বিশেষ থ্রিডি ক্যামেরা সিস্টেম, যা তিনি সাধারণত ‘অ্যাভাটার’ সিনেমার জন্য ব্যবহার করেন। বিলির গানের স্টেজে লাইটিং আর গ্রাফিক্সের কারিকুরি এমনভাবে ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে যে, মনে হবে বিলি আপনার সামনেই দাড়িয়ে গাইছেন।
৮. ব্যাকরুমস
২০ বছর বয়সী কেন পার্সনস তার নিজের ঘরের দেয়াল থেকেই প্রথম এই শর্ট ফিল্মের আইডিয়া পেয়েছিলেন। সিনেমাটি কোনো গতানুগতিক ভূত নেই, বরং এর পরিবেশটাই আপনাকে ভয় পাইয়ে দেবে। বিশাল শপিং মল বা আসবাবপত্রের দোকানের আড়ালে যে অন্য এক জগত থাকতে পারে, সেই সাইকোলজিক্যাল হররই এর মূল আকর্ষণ।
৯. আই লাভ বুস্টারস
বুটস রাইলি সিনেমাটিকে একটু ‘রবিন হুড’ স্টাইলে সাজিয়েছেন। ডেমি মুরের ডিজাইনার চরিত্রটি যখন চোরদের ধরার জন্য জাল পাতে, তখন শুরু হয় ইঁদুর-বেড়াল লড়াই। সিনেমার রঙিন সিনেমাটোগ্রাফি আর মজার সব সংলাপ দর্শকদের বিনোদনের পুরো খোরাক জোগাবে।
১০. দ্য সল্ট পাথ
গিলিয়ান অ্যান্ডারসন এই চরিত্রের জন্য নিজেকে একদম মেকআপ ছাড়া ন্যাচারাল লুকে উপস্থাপন করেছেন। সমুদ্রের তীরের রুক্ষ আবহাওয়া আর কঠিন জীবনের সংগ্রাম ফুটে উঠেছে প্রতিটি দৃশ্যে। বিতর্ক থাকলেও, একজন অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে স্ত্রীর এই দীর্ঘ পদযাত্রা আসলে ভালোবাসার এক অন্যরকম দলিল।













