তৌকীর আমাকে অনেক কাঁদিয়েছে : আবুল হায়াত

আবুল হায়াত। ইনসেটে তৌকির
তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত এ দেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত আদর্শিক জুটি হিসেবে। সময়ের আবর্তনে পরিবর্তন ঘটেছে রঙের। নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকীর পেরিয়েছেন ছয় দশক। এ নিয়ে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের। এই আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের বিশিষ্ঠ নাট্যজনরা। এই সারিতেই ছিলেন আবুল হায়াত।
তৌকীর বিয়ে করেছেন আবুল হায়াত কন্যা অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশাকে। এদিন তৌকীরকে নিয়ে নানা কথাই বলেছেন আবুল হায়াত। ভূষিত করেছেন নানা বিশেষণে।
সেখানে তৌকীরকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবুল হায়াত বলেছেন, ‘শাশুড়ির কাছে সে হলো শ্রেষ্ঠ জামাই। কারণ তাকে যা খেতে বলে সে তাই খায়। আমার স্ত্রী সবসময় তার পাতে খাবার ঢালতে থাকে। ইলিশ মাছ আরেক টুকরা নাও; আচ্ছা ওটা খুব মজা লেগেছে না, আরেক টুকরা নাও। আর সেও ভালো মানুষ, “মা দিচ্ছে” বলে সে নিচ্ছে। আমি জানি না হয়তো তার খাওয়ার আর উপায় নাই, কিন্তু মাকে খুশি করার জন্য সে খায়।’
‘আমার বাসায় যখন তৌকীর আসে বা তৌকীরের সাথে যখন আমার দেখা হয়, আমাদের যে কথাবার্তাগুলো হয়, আমি মনে করি যে আমার একটা ক্লাস হলো’
তৌকীর আহমেদের পড়াশোনার প্রতি অনুরাগ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেছেন, সৃজনশীল ব্যক্তি সেই হতে পারে যার এডুকেশন থাকে। এখানে ফ্যাকাল্টিগুলো ডেভেলপ করে। তো সৃজনশীল ব্যক্তি শুধু এডুকেশন মানে প্রথাগত এডুকেশন তো হয় না, তার অন্যান্য এডুকেশনও থাকে। এবং এই একটা জিনিস- তার বিরাট বড় গুণ যে সে বই পড়ে। বিভিন্ন রকম বই পড়ে। আমি যদি তৌকীরের সাথে এক ঘণ্টা বসে আড্ডা মারি, আমার তো মনে হয় আমি অনেক কিছু শিখি।
তৌকীরে কারণে অকারণে মুগ্ধ আবুল হায়াত। তার ভাষ্য, ‘আমার বাসায় যখন তৌকীর আসে বা তৌকীরের সাথে যখন আমার দেখা হয়, আমাদের যে কথাবার্তাগুলো হয়, আমি মনে করি যে আমার একটা ক্লাস হলো, আমি অনেক কিছু শিখলাম। আমরা যারা পুরনো আছি; কিছু কিছু আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা পড়ার অভ্যাস ছিল, ক্লাসে বই ছিল, বই জোর করে দিত স্কুল থেকে, পড়তে হবে, গল্প পরের দিন এসে সেই গল্প বলতে হবে— সেগুলো তো হারিয়ে গেছে। কিন্তু তৌকীর যেখানেই যাবে, যখন কোনো মার্কেটে গেলে আমি তাকে খালি হাতে ফিরতে দেখিনি। বই একটা কিনবেই সে।’
‘তখন বিপাশার কোরআন, বেদ, বাইবেল এগুলো তার পড়া শেষ। চিন্তা করা যায় না! কী পড়ে এত! ও কি রাত জেগে থেকে এত বই পড়ে?’
‘বিপাশারও কিন্তু একই রোগ। বিপাশা ক্লাস টেনে যখন পড়ে, তখন বিপাশার কোরআন, বেদ, বাইবেল এগুলো তার পড়া শেষ। চিন্তা করা যায় না! কী পড়ে এত! ও কি রাত জেগে থেকে এত বই পড়ে? এটা তার নেশা। এবং এখনো সে বই পড়ে। এবং আমাকে সে গল্প বলে। তো এই দুটো মানুষ একত্রিত হলো যেদিন, আমি বলি এখনো যে তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে।’ যোগ করেন দেশের দীর্ঘ সময়ের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
বক্তব্যে আবুল হায়াত খানিক রসিকতা ও আবেগের সঙ্গে তৌকীর আহমেদকে ‘ভিলেন’ বলেও অভিহিত করেন! কারণ জামাতা হিসেবে মেয়েকে নিয়ে আবুল হায়াতকে কাঁদিয়েছেন তৌকির আহমেদ! আবুল হায়াত সে কথাই তুললেন। বললেন, ‘যেদিন সে বিপাশাকে নিয়ে গেল, এত কান্না আমার জীবনে আমি কাঁদিনি। আমার দুটো কন্যা, দুটো কন্যা যেদিন বিয়ে হলো, এই দুই কন্যার বিয়েতে আমি কেঁদেছি। তার মধ্যে তৌকীর হলো প্রথম ভিলেন।’
‘দুই হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দিন তাদের একনজর দেখতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ’
১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন বিপাশা ও তৌকীর। বর্তমানে বিপাশা অভিনয় থেকে দূরে। অন্যদিকে তৌকীর সিনেমা নির্মাণে সক্রিয় থাকলেও তাকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না অভিনয়ে। অন্যদিকে আবুল হায়াতও নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত; পর্দায়ও দেখা যায় কালেভদ্রে।
বিপাশা এবং তৌকিরের বিয়ের দিনের কথা টেনে আবুল হায়াত জানান, বিয়ের আয়োজনে প্রায় দুই হাজার অতিথিকে দেওয়া হয়েছিল দাওয়াত। কিন্তু বিয়ের দিন তাদের একনজর দেখতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ। সেদিনের কথা স্মরণ করে বলছিলেন, ‘সব খাবার টেবিলে পড়ে ছিল, কেউ খেতে পারছে না। কারণ সবার একটাই কথা— আমরা খেতে আসিনি, তৌকীর-বিপাশাকে দেখতে এসেছি। মানুষের ভিড়ে তৌকীর-বিপাশার তখন টেকা দায় হয়ে পড়েছিল। এত এত হাজার হাজার লোক! তখন বিয়ের আসর থেকে তৌকীর-বিপাশাকে পালাতে হলো।’



