শ্যামল শিশিরের ‘বিয়ের গীত’ প্রকল্পে আইসিটিএমডির আমন্ত্রণ, গ্রাহাম সিলের মেন্টরশিপ

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ফোক গবেষক শ্যামল শিশিরের সাংস্কৃতিক গবেষণার দিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান মনোযোগ তৈরি হয়েছে। কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফোকলোর কনফারেন্স ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ট্রেডিশনস অব মিউজিক অ্যান্ড ড্যান্সের (আইসিটিএমডি) অধীনে আয়োজিত সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়ার মাধ্যমে তার কাজ নতুন বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
আইসিটিএমডি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একাডেমিক নেটওয়ার্ক, যা সংগীত, নৃত্য এবং পারফরম্যান্স ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করে থাকে। ইউনেস্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সংগঠনটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নৃতত্ত্ববিদ, এথনোমিউজিকোলজিস্ট এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদদের একত্রিত করে জীবন্ত ঐতিহ্য ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করে।
এই একাডেমিক পরিসরে শ্যামল শিশিরের অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার লোকজ পারফরম্যান্স সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নারীকেন্দ্রিক অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে।
তার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘বিয়ের গীত’ শিরোনামের একটি ডকুমেন্টারি প্রকল্প— যা বাংলাদেশের গ্রামীণ বিয়ের রীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি মৌখিক ও পারফরমেটিভ ঐতিহ্য। এই গানগুলো সাধারণত নারীদের দ্বারা রচিত ও পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে আবেগ, সামাজিক মন্তব্য ও সম্মিলিত স্মৃতির বহুস্তরীয় অভিব্যক্তি পাওয়া যায়।
শিশিরের কাজ এই পারফরম্যান্সগুলোকে কেবল সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে নয়, বরং জীবন্ত সৃজনশীল অভিব্যক্তি ও সামাজিক কণ্ঠস্বর হিসেবে নথিবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটর ফোকলোরের এমিরিটাস অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফোকলোর গবেষক অধ্যাপক গ্রাহাম সিল এই প্রকল্পের মেন্টর হতে সম্মতি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে লোকসংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয়, মিথ ও ঐতিহ্য বিষয়ে গবেষণার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তার এই সম্পৃক্ততা প্রকল্পটিকে একাডেমিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী ও স্বীকৃত ভিত্তি দিয়েছে।
নিজের গবেষণা প্রসঙ্গে শ্যামল শিশির জানান, বিয়ের গীতকে তিনি বৈশ্বিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোচনায় নতুনভাবে স্থাপন করতে চান। তার মতে, এই গানগুলো শুধু আচার-অনুষ্ঠানের অংশ নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে নারীদের সৃজনশীল কণ্ঠস্বর ও অভিজ্ঞতার প্রকাশ, যা মূলধারার সাংস্কৃতিক নথিবদ্ধতায় অনেক সময় উপেক্ষিত।
কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির একাডেমিক স্বীকৃতি, আইসিটিএমডির বৈশ্বিক গবেষণা পরিসরে অংশগ্রহণ এবং ফোকলোর গবেষণার একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বের মেন্টরশিপ— এই তিনটি উপাদান একত্রে শ্যামল শিশিরের কাজকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।




