এড শিরানের পোস্টে রাতারাতি আলোচনায় ৮০ বছরের শিল্পী

এড শিরান ও অ্যালান টেইলর
সঙ্গীত দুনিয়ায় স্পটলাইট কখন কার ওপর এসে পড়বে, তা বলা মুশকিল। কেউ কোটি টাকার প্রমোশন করেও শ্রোতা পান না, আবার কেউ চার দশকের পুরোনো এক ধুলোবালি জমা রেকর্ড দিয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যান। ঠিক এমনটাই ঘটল লিডসের ৮০ বছর বয়সী ফোক ট্রুবাডোর অ্যালান টেইলর-এর সাথে। পপ মেগাস্টার এড শিরানের একটিমাত্র ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জাদুতে চার দশক ধরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া ১৯৭৮ সালের ফোক অ্যালবাম ‘দ্য ট্রাভেলার’ এখন বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের অ্যালবামে পরিণত হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো অফিশিয়ালি মুক্তি পেয়েছে স্পটিফাই-এ।
এড শিরান আজ স্টেডিয়াম কাঁপানো তারকা হলেও, তার ক্যারিয়ারের শুরুটাও ছিল গিটার হাতে পাব-এ গান গেয়ে আর মানুষের সোফায় ঘুমিয়ে। ঠিক একই জীবন আজ থেকে ৬০ বছর আগে কাটিয়েছেন অ্যালান টেইলর। নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গের একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড ভিনাইল রেকর্ড স্টোরে ঘুরতে ঘুরতে শিরান হঠাৎ খুঁজে পান টেইলরের ‘দ্য ট্রাভেলার’ এলপি-টি। গানগুলো শুনে শিরান এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘এটি একটি আসল রত্ন, যা অনলাইনে কোথাও পাওয়া যায় না।’ শিরানের এই একটি পোস্টের পরেই নেট দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে যায় এবং গানটি শোনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন শ্রোতারা।
নিজের ব্যর্থতা এবং জীবনদর্শন নিয়ে টেইলর জানান, ‘দ্য ট্রাভেলার’ গানটি তিনি লিখেছিলেন নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে। যদি লক্ষ্য কেবল টাকা আর খ্যাতি হয়, তবে ব্যর্থ হলে মানুষ নিজের সত্ত্বাই হারিয়ে ফেলে। কিন্তু নিজের বিশ্বাসে অটল থাকলে মাথা উঁচু করে বাঁচা যায়। ১৯৮০-এর দশকে ব্রাসেলসের এক বারে মাঝরাতে সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প দেখেই তিনি তার নিজস্ব ‘স্টোরিটেলিং’ বা গল্প বলার গান গাওয়ার স্টাইল খুঁজে পেয়েছিলেন, যা আজ লিওনার্ড কোহেন বা জনি ক্যাশের গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই গ্রীষ্মেই ফোক ক্লাবগুলোতে বিদায়ী কনসার্ট করে গানকে চিরতরে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী। কিন্তু ঠিক অবসরের মুহূর্তে শিরানের এই স্বীকৃতি তার জীবনে নতুন বসন্ত নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই টেইলর ও শিরানের মধ্যে ফোনে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। টেইলর অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান, বিশ্ব কাঁপানো এড শিরান তাকে বলেছেন— তিনি খুব শীঘ্রই প্রবীণ এই চারণকবির বাড়িতে আসবেন এক কাপ চা খেতে এবং গানের আড্ডায় মাততে!





