সমালোচনার জবাব কাজ সেটাই করছি

অর্থী আহমেদ
অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির আয়োজনে গতকাল শুক্রবার ১০ হাজারের বেশি দর্শক মেতেছিল ‘ঘনঘটা’ নৃত্যানুষ্ঠানে। চারুকলার বকুলতলায় এই আয়োজনের মূল কাণ্ডারি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থী আহমেদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান
‘ঘনঘটা’ নৃত্যানুষ্ঠানে তো অভূতপূর্ব সাড়া পেলেন। অনুভূতি কেমন?
অর্থী আহমেদ: এত বিপুল দর্শক সমাগম প্রত্যাশা করিনি। আমাদের সিকিউরিটি টিম জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এসেছিলেন। দর্শকদের এই ভালোবাসার কাছে আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। তবে বেশি ভিড়ের কারণে অনেক দর্শক ভেতরে ঢুকতে পারেননি, এজন্য খুব খারাপ লাগছে। পরের বার ‘ঘনঘটা’ আয়োজন করলে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখব। এতে আরও গোছানো আয়োজন সম্ভব হবে।
ড্যান্স একাডেমির শুরুর গল্প জানতে চাই।
অর্থী আহমেদ: ২০২০ সালে কভিড মহামারীর দুঃসময়ে আমরা এই একাডেমির যাত্রা শুরু করি। বর্তমানে বনানীতে দুটি এবং মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে একটি শাখায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নাচ শিখছেন। বিভিন্ন বয়সী এবং নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন।
একুশে পদক পাওয়ায় নৃত্যশিল্পীদের কেউ কেউ আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
অর্থী আহমেদ: আমার একুশে পদক পাওয়া নিয়ে যখন সমালোচনা হয়েছে— আমি তখনো জবাব দিইনি, এখনো কাউকে জবাব দিতে চাই না। আমার কাছে সমালোচনার একমাত্র উত্তর হলো ‘কাজ’। আমার নাচকে কেউ কেউ ‘অশ্লীল’ও বলেছেন। কিন্তু যারা আমাদের প্রোগ্রাম দেখেছেন, তাদের কি মনে হয়েছে যে আমাদের পোশাক, অঙ্গভঙ্গি কিংবা মুদ্রায় কোথাও কোনো অশ্লীলতা ছিল? আমার একাডেমিতে যারা নাচ শেখেন, তাদের মধ্যে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার— এমনকি কলেজের প্রিন্সিপালও আছেন। ৬০ বছর বয়সী একজন কলেজের প্রিন্সিপাল নিশ্চয়ই অশ্লীল নাচ শিখতে আমার কাছে আসবেন না! আমি চাই এমন কিছু করতে, যেন নৃত্যশিল্পীরাও আমাকে আগের মতো ভালোবাসেন। আমি ‘সাধনা’য় প্রায় ২০ বছর এবং এর আগে ‘ছায়ানট’-এ নাচ শিখেছি। রবীন্দ্রভারতী থেকে অনার্স-মাস্টার্স এবং চেন্নাই থেকে টিচার্স ট্রেনিং নিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু করার চেষ্টা করছি।
‘ঘনঘটা’ আয়োজনের উদ্দেশ্য কী?
অর্থী আহমেদ: বর্ষা আমার ভীষণ প্রিয় ঋতু। কিন্তু ঢাকায় এই ইট-পাথরের জাঁতাকলে বসবাস করার কারণে বর্ষা মানেই এখন আমাদের কাছে জলাবদ্ধতা আর ট্রাফিক জ্যামের ভোগান্তি। বর্ষার যে আদি রূপ, তা উপভোগ করার জায়গা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। সেই ভাবনা থেকেই আয়োজনটির পরিকল্পনা। মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এবং প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখানোই উদ্দেশ্য।
আয়োজনটি বন্যার্তদের উৎসর্গ করেছেন?
অর্থী আহমেদ: হ্যাঁ, আমরা যখন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করি, তখন দেশের বন্যা পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নেয়নি। পরে পরিস্থিতি খারাপ হলে আমরা পুরো প্রোগ্রামটি বন্যা দুর্গতদের জন্য উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের পারফরমাররা এবং দর্শকদের অনেকে বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য অর্থ তহবিল গঠনে এগিয়ে এসেছেন। সংগৃহীত এই অর্থ জাগো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বন্যার্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় দেওয়া হবে।
ঢাকার বাইরেও কাজ করার পরিকল্পনা আছে?
অর্থী আহমেদ: অবশ্যই আছে। বর্তমানে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ থেকেও অনেকে আসেন নাচ শিখতে। ২০১৯ সালে আমি প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে গিয়ে নিয়মিত নাচ শিখিয়েছি। এখন ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে ঢাকার বাইরে গিয়ে কাজ করাটা কঠিন। আমাদের এখানে কয়েকজন যোগ্য ট্রেনার তৈরি হচ্ছেন। তারা যখন একাডেমির মূল দায়িত্বগুলো সামলাতে পারবেন, তখন আমি ঢাকার বাইরেও কর্মশালা ও বড় বড় অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাব। আমি কোনো দায়সারা কাজ করতে চাই না; একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য একটু সময় নিয়ে গোছানো পরিকল্পনা করতে হবে।




