ভালো গল্প আছে প্রযোজক পাচ্ছে না
- ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে আসছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম জুটির সিনেমা ‘মালিক’। এর মাধ্যমে দুই বছর পর বড় পর্দায় আসছেন মিম। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম
যতদূর জানি, ‘মালিক’ সিনেমার মুক্তি নিয়ে দ্বিধা ছিল। অবশেষে তা কেটে গেছে। ঈদুল আজহায় সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। কেমন লাগছে?
ভালো লাগছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে ‘পরাণ’ আসছিল কোরবানির ঈদে। চার বছর বিরতির পর এই কোরবানির ঈদে আবার সিনেমা আসছে। আমার চরিত্রের নাম হচ্ছে মায়া। মায়া অনেক চঞ্চল, চটপটে টাইপের একটা মেয়ে। একটা ইনসিডেন্টের পর মেয়েটার পরিবর্তন হয়।
‘পরাণ’ যে সাফল্য পেয়েছিল, মালিক নিয়ে কি তেমন প্রত্যাশা আছে?
এটা আসলে আগে থেকে বলা যায় না। পরাণ এক টাইপের ছবি ছিল, এটা এক রকম। আমরা তো একটা ভালো গল্পের সিনেমা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন দর্শকদের কাছে সাফল্যের চাবিকাঠি।
তিন বছর পর নতুন চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে। কী ভেবে এই বিরতি?
ঠিকঠাক প্রজেক্ট আমার কাছে আসেনি, অথবা আমার ভালো লাগেনি— তাই এই লম্বা বিরতি হয়ে গেল। প্রথমে ‘মালিক’ ছবিটাও করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু পরে ভাবলাম প্রজেক্টটা করি, যদি ভালো কিছু হয়ে যায়, তাহলে দর্শক কিছু পেল আমার কাছ থেকে। গ্যাপ যেহেতু বাড়ছিল, সবকিছুতেই যদি না না করতে থাকি, তাহলে গ্যাপ কি না আরও বাড়ে। পরে ‘মালিক’ নির্মাতার সঙ্গে বসি একাধিকবার। নির্মাণ পরিকল্পনা শুনে মনে হয় সিনেমাটি করতে পারি।
আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘মালিক’ আপনার তৃতীয় সিনেমা। সময়ের সঙ্গে শুভর মধ্যে কী কী পরিবর্তন দেখলেন?
আমার তো ওনাকে অলওয়েজ সেম লাগে। মানে টেলিভিশন নাটকেও তো আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। এরপর সিনেমা করা হলো। একবিন্দুও পরিবর্তন চোখে পড়েনি।
অনেকেই বলেন, আপনি ‘রাজনীতির শিকার’, যে কারণে কাজের ব্যস্ততা কমেছে...
এটা সত্য যে, আমার কাছে তো ভালো প্রজেক্ট আসতে হবে। না এলে তো আর জোর করে আমার ব্যস্ততা বাড়াতে পারব না। তেমন গড়পড়তা কাজ আমি কখনোই হতে চাইনি। যেকোনো প্রডাকশন হাউজে তাদের ঘরানার মানুষ থাকে, তাদের সার্কেলের মানুষ থাকে, সিন্ডিকেটের মানুষ থাকে, সো, ওরা ওদের মানুষ নিয়ে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
বর্তমান চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ কীভাবে দেখছেন?
আমি যে সময় আসছি, ওই সময় থেকে এখনকার কোয়ালিটি ভালো। এখন যে ধরনের সিনেমা হচ্ছে ওই সময় তো এত ছবি ছিল না। এ রকম থাকলে তখন আমি হয়তো অনেক সিনেমা করতাম। হচ্ছিল না বলে তো আসলে আমি তখন নাটকে ব্যাক করি। আর এখন অনেক ইয়াং ডিরেক্টর এসেছে। যারা সবাই এখন ভালো ভালো প্রজেক্ট করছে। যেমন, আমার কাছে অনেক নতুন ডিরেক্টরের গল্প আছে, খুব সুন্দর গল্প। কিন্তু তারা আসলে প্রডিউসার ঠিকঠাক মতো পাচ্ছে না বলে প্রজেক্ট হচ্ছে না। ওই সাপোর্ট বা প্রডাকশন হাউজের সাপোর্ট থাকত, তাহলে অনেক সিনেমা হতো।
হাতে থাকা সিনেমাগুলোর কোনো আপডেট আছে?
‘লাইফ লাইন’ সম্ভবত জুনের ১৫-১৬ তারিখের দিকে আসবে। চরকি সিনেমাটির ঘোষণা দেবে। ‘জীবন অপেরা’ সিনেমার শুটিং প্রায় শেষ। এক দিনের শুটিং করলেই হবে। ওই সিনেমাটি এ বছর আসবে কি না আমি শিওর না। ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার আপডেট জানি না।
ছোট পর্দার নাটকে ফিরতে ইচ্ছে হয় কখনো?
না। না।
অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তি মিম কেমন?
অনেকে মনে করে আমার মধ্যে নায়িকাসুলভ বিষয়টি বেশি। আমি অনেক বেশি মুডি। কিন্তু যখন আলাপ হয় তখন হয়তো বোঝে ব্যক্তি মিম আর ১০ জনের মতোই সাধারণ কথাবার্তা বলতেই বেশি পছন্দ করে। অনেককেই দেখি কথা বলে অবাক হয় যে আমি তেমনটা নই, উনি যেমনটা ভেবেছেন।
ক্যারিয়ারে কোনো আফসোস আছে? যেমন কোনো ছবি ছেড়ে দিয়েছেন, পরে সেটি প্রশংসিত হয়েছে?
আমার এ রকম অনেক ছবি আছে; কিন্তু কখনো এমন ফিল হয়নি যে ওটা ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছি। জীবনে যা কিছু ছেড়েছি, তা নিয়ে আফসোস নেই।
আগামী ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
যদি বেঁচে থাকি তাহলেই তো দেখতে চাইব, আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ১০ বছর পরও যেন এই স্বপ্নগুলো নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
ঈদের সিনেমাগুলো দেখার ইচ্ছা আছে?
হ্যাঁ, ইচ্ছা তো আছে সবই দেখব। আর বড় পর্দায় তো ছবি দেখতে আমার অনেক ভালো লাগে। চেষ্টা করব দেখার।






