১৫ বছর আগে যেভাবে টিভি দুনিয়া বদলে দিয়েছিল ‘গেম অব থ্রোনস’

সংগৃহীত ছবি
আজ থেকে ঠিক ১৫ বছর আগে, ওয়েস্টেরস সাম্রাজ্যের সেই বিখ্যাত সিংহাসনের লড়াই প্রথমবার আমাদের টিভি স্ক্রিনে ধরা দিয়েছিল। জর্জ আর.আর. মার্টিনের বই থেকে বানানো এই সিরিজটি কেবল একটি গল্প ছিল না, এটি ছিল ভায়োলেন্স আর খোলামেলা দৃশ্যের এক এমন ঝড়, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।
টিভি দেখার ধারণাটাই বদলে দিয়েছিল এই শো। গল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা যৌনতা আর রক্তপাতকে তলোয়ারের মতো ব্যবহার করেছে। মাঝেমধ্যে তো মনে হতো, ক্ষমতার লড়াইয়ের চেয়ে পর্দার এই ‘বাড়াবাড়ি’ দৃশ্যগুলোই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে!
২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল যখন এইচবিও তে শোটি শুরু হলো, প্রথম কয়েক পর্বেই বোঝা গেল এটা বাচ্চাদের জন্য নয়। সিরিজের নির্মাতা ডেভিড বেনিওফ আর ডি.বি. ওয়াইস একটা কথা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ‘এখানে কেউ নিরাপদ নয়।’
সাধারণত আমরা দেখে থাকি সিনেমার হিরো শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে, কিন্তু এই সিরিজে প্রথম সিজনেই মেইন হিরো নেড স্টার্কের মাথা কেটে ফেলা হলো! এরপর থেকেই শুরু হলো বীভৎসতার নতুন রাজত্ব। গলা কাটা, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা কিংবা হাড়গোড় গুঁড়ো করে দেওয়া সবকিছুই এত বিশ্রীভাবে দেখানো হতো যে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যেত।
সিরিজের সবচেয়ে ভয়ানক মোড় ছিল 'রেড ওয়েডিং'। বিয়ের আসরে যেভাবে প্রধান চরিত্রগুলোকে কুপিয়ে মারা হলো, তা দেখে দর্শকরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার ওবেরিন মার্টেলের সেই দৃশ্যটার কথা ভাবুন, যেখানে ‘দ্য মাউন্টেন’ তার দুই হাত দিয়ে ওবেরিনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। কিংবা আরিয়া স্টার্ক যখন তার শত্রুর ছেলেদের মাংস দিয়ে পাই বানিয়ে সেই বাবাকেই খাইয়েছিল! টিভিতে রক্তারক্তি যে এত ভয়াবহ হতে পারে, তা এই সিরিজই প্রথম দেখিয়েছিল।
‘গেম অব থ্রোনস’ মানেই ছিল পরতে পরতে যৌনতা। সিরিজের নির্মাতারা বইয়ের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে পর্দায় এসব দৃশ্য দেখিয়েছেন। অনেক সময় তো মনে হতো, শুধু দর্শক টানার জন্যই জোর করে নগ্নতা ঢোকানো হচ্ছে।
জেমি আর সার্সির সেই অদ্ভুত সম্পর্ক দর্শকদের মাথা খারাপ করে দিয়েছিল। বইয়ে যা ছিল না, তেমন অনেক ধর্ষণের দৃশ্য টিভিতে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের রাতে সানসা স্টার্কের ওপর হওয়া নির্যাতন সারাবিশ্বে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ডেনেরিস টারগারিয়ান বা ড্রাগন জননীকেও প্রথম দিকে লঞ্ছিত হতে হয়েছে বারবার।
বলা হয়, সিরিজের শেষের দিকে যখন #MeToo আন্দোলন শুরু হলো, তখন নির্মাতারা ভয় পেয়ে এসব দৃশ্য কমিয়ে দিয়েছিলেন।
ভালো হোক বা মন্দ, ‘গেম অব থ্রোনস’ টেলিভিশনের জন্য একটা নতুন ফর্মুলা তৈরি করে দিয়ে গেছে। এখনকার অনেক জনপ্রিয় সিরিজ এই পথেই হাটছে।
আজ ১৫ বছর পরেও মানুষ যখন এই সিরিজের কথা ভাবে, তখন রক্তমাখা যুদ্ধ আর সেই সাহসী দৃশ্যগুলোর কথাই আগে মনে পড়ে। এটি যেমন বিনোদনের সংজ্ঞা বদলেছে, তেমনি উসকে দিয়েছে হাজারো বিতর্ক। পর্দার সেই নৃশংসতা আর সাহসিকতা আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে।



