জয় পেলে ক্ষমতায় বসতে কার সঙ্গে জোট করবেন বিজয়?

থালাপতি বিজয়
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে বিজয়ের দল টিভিকে যখন ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে, তখন চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে এক নতুন আলোচনার ঝড়। গত কয়েক মাসের তিক্ত ঝগড়া আর জোটের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর এআইএডিএমকে এবং টিভিকে এই দুই দলের এক হওয়া এখন দেখছেন সবাই বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
উভয়পক্ষই ভোটের আগে জোটের কথা অস্বীকার করায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নির্বাচনী মৈত্রীর সব দরজা। তবে, টিভিকের এই দুর্দান্ত ফল ভোটের পরের নতুন সমীকরণকে বাঁচিয়ে রেখেছে একদম জ্যান্তভাবে। পর্দার আড়ালে চলা সেই গোপন আলাপগুলো আবার চাঙ্গা হতে পারে এখনকার এই বিশেষ পরিস্থিতিতে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে এআইএডিএমকে জোটের বার্তা পাঠায় বিজয়ের কাছে আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে। সেই সময়ের আলোচনায় টিভিকে জুড়ে দেয় বেশকিছু কঠিন আর বড় শর্ত।বিজয় দাবি করেন, জোটের প্রধান নেতৃত্ব আর নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার এক বিশাল সুযোগ।
এআইএডিএমকে এতদিনের পুরনো দল হয়েও এই নতুন দলকে অর্ধেক আসন ছাড়তে চায়নি একদমই। সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এআইএডিএমকে ফিরে যায় বিজেপির সঙ্গে পুরনো সেই সখ্যে। আর বিজয় জেদ ধরেন,ে তিনি লড়বেন ২৩৪টি আসনেই একা নিজের ইমেজের ওপর ভর করে।
প্রকাশ্য জনসভায় টিভিকে বারবার অস্বীকার করে এআইএডিএমকের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন চুক্তির কথা। বিজয় ঘোষণা করেন, তিনি লড়বেন একদম স্বাধীনভাবে কোনো ধরনের সুবিধাবাদী জোট ছাড়াই। প্রচারণার মাঠে তিনি সমানতালে আক্রমণ করেন ক্ষমতাসীন ডিএমকে আর বিজেপিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতে।
বিজয় সুকৌশলে বজায় রাখেন এক নিরাপদ দূরত্ব এআইএডিএমকে আর বিজেপির জোট থেকে। এআইএডিএমকে প্রধান পালানিস্বামীও মার্চ মাসে সরাসরি নাকচ করে দেন বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলানোর সব সম্ভাবনা। দুই দলের নেতাদের মাঝের সেই বিষাক্ত বাকযুদ্ধ তখন থামিয়ে দেয় জোটের সবরকম শেষ আশাকে।
ভোটের আগের সেই হিসাব-নিকাশ এখনকার ফলে হয়ে গেছে একদম মীমাংসিত। তিন কোনা এই লড়াইয়ে নেমে বিজয় এখন দেখছেন নিজের স্বপ্নের এক সফল বাস্তবায়ন। মাত্র দুই বছরের পুরনো দল নিয়ে বিজয় পৌঁছে গেছেন তামিল রাজনীতির একদম শীর্ষ চূড়ায়।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ২৩৪ আসনের এই বিধানসভায় বিজয় এখন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। এখন বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে যে নির্বাচনের পর সরকার গড়তে এ দুই দল এক হবে কি না। কোনো দলই যদি সরকার গড়ার মতো আসন না পায়, তবে পর্দার আড়ালে অসম্ভব সেই আলোচনা শুরু হতে পারে আবার নতুন করে।
এআইএডিএমকে যদি বিজয়কে কাছে টানে, তবে তাকে মেনে নিতে হবে বিজয়ের সমান প্রতাপ আর ক্ষমতা। আগে তার নেতৃত্ব যারা ফিরিয়ে দিয়েছিল, তারাই এখন বিজয়কে দিতে পারে বিশেষ সম্মান। আর বিজয় যদি এই জোটে যান, তবে তাকে ভাঙতে হবে বিজেপি আর এআইএডিএমকে বিরোধী নিজের সেই পুরনো শপথ।
রাজনীতির এই অদ্ভুত খেলায় শেষ পর্যন্ত কে কার হাত ধরবে তা দেখার অপেক্ষায় আছে পুরো দেশ। আজ ৪ মের এই ফল তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় এক নতুন বিপ্লবের গল্প লিখতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। বিজয়ের এই বাঁশির সুর চেন্নাইয়ের মসনদ পর্যন্ত পৌঁছায় কি না তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।



