শহীদুল ইসলাম খোকনের চলে যাওয়ার দিন আজ

শহীদুল ইসলাম খোকন
দেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন। তার নির্মিত সিনেমা যেমন ছিল সুপারহিট, তেমনি বাণিজ্যিক। তার মতো এমন মেধাবী নির্মাতা কমই জন্মায়।
গুণী এই নির্মাতার মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৪ এপ্রিল)। দীর্ঘদিন মুখগহ্বরের মোটর নিউরন ডিজিসে (এএলএস) আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন নির্মাতা খোকন। এরপর ২০১৬ সালের আজকের এই দিনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে শহীদুল ইসলাম খোকনের সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই ছিল প্রেক্ষাগৃহের টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। মার্শল আর্টনির্ভর অ্যাকশন, নাটকীয়তায় ভরপুর চিত্রনাট্য আর গানের কারণে তার নির্মিত বহু সিনেমা দর্শকপ্রিয় হয় সে সময়।
দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শহীদুল ইসলাম খোকনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১৫ মে। সোহেল রানার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। ঢাকার চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানার সহকারী হিসেবে। খোকনের নিজের বানানো প্রথম সিনেমা ছিল ‘রক্তের বন্দি’।
শুরুর দিকে খোকনের ছবি ভালো ব্যবসা করতে না পারলেও চিত্রনায়ক রুবেলকে নিয়ে খোকনের ‘লড়াকু’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায়। এরপর ‘পালাবি কোথায়’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘ভণ্ড’, ‘ঘাতক’, ‘লড়াকু’, ‘বীরপুরুষ’, ‘লাল সবুজ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’, ‘সতর্ক শয়তান’, ‘বিষদাঁত’, ‘উত্থান পতন’ ও ‘টপ রংবাজ’-এর মতো বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমা এসেছে তার হাত দিয়ে। নির্মাণ করেছেন প্রায় ৪০টির মতো সিনেমা। অভিনয় করেছেন অনন্ত দুটি সিনেমায়।
ড্যানি সিডাক, ইলিয়াস কোবরার মতো অ্যাকশন সিনেমার অনেক অভিনেতাই ঢাকাই সিনেমায় এসেছেন শহীদুল ইসলাম খোকনের হাত ধরে। তার চলচ্চিত্রে মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর, অপরাধীর বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিকের লড়াই এসেছে বারবার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাও তার চলচ্চিত্রকে ছুঁয়ে গেছে।
শহীদুল ইসলাম খোকনের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবার ছাড়াও তাকে স্মরণ করছে পরিচালক সমিতিসহ তার সহকর্মীরা।
ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ছবির তালিকায় জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’র পর একমাত্র সংযোজন শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘বাঙলা’। আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’ অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেন তিনি।



