অভিনেতাদের চা-নাস্তা দিতেন একসময়, অনিল কাপুর এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক

অনিল কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
‘ঝাকাস’ বললেই চোখে ভেসে ওঠে বলিউডের এভারগ্রিন মেগাস্টার অনিল কাপুরের মুখ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় রাজত্ব করছেন ৬৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা। উপহার দিয়েছেন ‘মি. ইন্ডিয়া’, ‘তেজাব’, ‘রাম লখন’ কিংবা ‘বেটা’-র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা।
বর্তমানে অনিল কাপুরের সম্পদের পরিমাণ ৩৩০ কোটি রুপি। তবে আজকের এই বর্ণিল সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় পেটের দায়ে সেটে চা-নাস্তা দেওয়া থেকে শুরু করে অভিনেতাদের এয়ারপোর্ট থেকে আনা-নেওয়ার ড্রাইভারিও করতে হয়েছে তাকে।
সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সংগ্রামের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন অনিল কাপুর নিজেই।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান থেকে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে মুম্বাই আসেন অনিল কাপুরের বাবা সুরিন্দর কাপুর। স্বজনদের সহায়তায় প্রখ্যাত পরিচালক কে আসিফের ‘মুঘল-ই-আজম’ সিনেমায় সহকারী হিসেবে কাজ পান সুরিন্দর।
সেসময় মুম্বাইতে থাকার জায়গা না থাকায় কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের গ্যারেজের ওপর ড্রাইভারের ঘরের ছোট্ট একটা রুমে ঠাঁই হয় তাদের। পরে তিলক নগরের এক চালের ছোট একটি ঘরে পুরো পরিবার নিয়ে ওঠেন তারা। ৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের পুরো পরিবার ২২ লাখ রুপির বিশাল দেনায় ডুবে যায়।
পরিবারের এমন কঠিন আর্থিক অনটনের দিনে বাবার হঠাৎ হার্টের সমস্যা দেখা দিলে মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সেই উপার্জনের পথ খুঁজতে বাধ্য হন অনিল কাপুর।
নিজের প্রথমদিকের কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে অনিল কাপুর বলেছেন, ‘সেসময় সেটের অভিনেতাদের ঘুম থেকে তোলা, গাড়ি চালিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে তাদের নিয়ে আসা, সময়মতো চা-নাস্তা ও খাবারের ব্যবস্থা করা— এসব ছোটখাটো কাজ দিয়েই আমি শুরু করেছিলাম। পরে লোকেশন খোঁজা, কাস্টিং ডিরেক্টরি এবং ছোটখাটো রোলে অভিনয় করি। এমনকি ১৯৭৯ সালে এক বিদেশে যাওয়া নাচের দলে মাত্র ১৫ পাউন্ড পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবেও নাচতে হয়েছিল আমাকে!’
অনিল কাপুর জানিয়েছেন, ১৯৭৬ সালে দূরদর্শনের এক টিভি অনুষ্ঠানে অভিনয় করে জীবনে প্রথম আয় করেছিলেন মাত্র ২৫০ রুপি!
১৯৮৩ সালে ‘ভো সাত দিন’ সিনেমা দিয়ে প্রধান নায়ক হিসেবে পথচলা শুরু করেন অনিল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা দিয়ে বলিউডের প্রথম সারির সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
বর্তমানে ৬৯ বছর বয়সেও তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওটিটি ও সিনেমা— উভয় মাধ্যমেই দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন অনিল কাপুর। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও জিকিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৩০ কোটি রুপি। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। কাজের ক্ষেত্রে তিনি প্রতি সিনেমার জন্য ২ থেকে ৭ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপনের দিক থেকেও তিনি বেশ সফল; স্পটিফাই ও মালাবার গোল্ডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিজ্ঞাপন থেকেই তার আয় হয় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি।
স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকে মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল জুহু বাংলোর পাশাপাশি লন্ডন, সান ফ্রান্সিসকো এবং দুবাইয়ে রয়েছে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট ও বিশাল সম্পত্তি।
এ ছাড়া তার সংগ্রহে রয়েছে ল্যাম্বরগিনি গ্যালার্দো স্পাইডার, মার্সিডিজ-মেবাখ, রেঞ্জ রোভার এবং অডি এ৮ এল-এর মতো চোখধাঁধানো সব দামি গাড়ি।
জিরো থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে কীভাবে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানো যায়— অনিল কাপুরের জীবনকাহিনী যেন তারই এক অনন্য দলিল!







