যে কারণে ‘খান’ পদবি ব্যবহারে অনীহা ছিল ইরফানের

ইরফান খান (ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেয়া)
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান। ছয় বছর আগে এই দিনে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে নিভে গেছে তাঁর জীবনপ্রদীপ। তবে তিনি অমর হয়ে আছেন ভক্তদের হৃদয় জুড়ে।
ইরফান খানের প্রস্থান বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে ভাষা, দেশ বা সংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারা শিল্পীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। থিয়েটার ও টেলিভিশনে কাজ করে পরিচিতি পাওয়ার পর বড় পর্দায় একে একে অনেক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি।
শুধু অভিনয়ই নয়, নিজের ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শনের জন্য ব্যতিক্রম ছিলেন ইরফান খান। নিজের নামে ‘খান’ পদবি ব্যবহারে অনীহা ছিল তাঁর। ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্পূর্ণ সচেতনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরফান বিশ্বাস করতেন— একজন মানুষের পরিচয় বংশ, ধর্ম বা পূর্বপুরুষ হতে পারে না। বরং কাজ ও সিদ্ধান্তই মানুষের প্রকৃত পরিচয় তৈরি করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘অনেকে এখনও পূর্বপুরুষদের কীর্তি নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকার কোনও অর্থ নেই। বর্তমানের কাজ ও সিদ্ধান্তেই মানুষের জীবন গড়ে ওঠে।’
ইরফান চেয়েছিলেন— কোনও ধর্মীয় কিংবা সামাজিক পরিচয়ের জন্য নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষ তাকে চিনবে। এমন চিন্তাভাবনা তাঁকে শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একইসঙ্গে সচেতন ও চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে আলাদা করে তুলেছিল।
২০১২ সালে আরেক সাক্ষাৎকারে ইরফান নিজের পরিচয়ে উল্লেখ করেন— ‘আমি ইরফান, শুধু ইরফান।’ অনেক আগে থেকেই নিজের নামে ‘খান’ ব্যবহারে নিজের অনীহার কথা তখনই জানান তিনি। তাঁর পুরো নাম ছিল সাহেবজাদে ইরফান আলি খান। নিজের প্রকৃত নামকে কিছুটা আড়ম্বরপূর্ণ মনে করতেন তিনি।
ইরফান’ নামের ‘র’ কিংবা ‘আর’ অক্ষরটি প্রয়াত অভিনেতার খুব পছন্দ ছিল। তাই ‘খান’ বাদ দিয়ে নিজের নামের ইংরেজি বানানে একটি অতিরিক্ত ‘আর’ বা দুটি ‘আর’ ব্যবহার করতেন তিনি।
নায়কসুলভ চেহারা না থাকলেও সাড়ে তিন দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয় কী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ইরফান খান। বলিউডে তাঁর অভিষেক হয় অস্কারে মনোনীত ‘সালাম বোম্বে’ (১৯৮৮) ছবির মাধ্যমে। ‘হাসিল’ (২০০৩) ও ‘মকবুল’ (২০০৪) ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ সমাদৃত হন তিনি।
২০১৩ সালে বাফটা অ্যাওেয়ার্ডসে সেরা অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত ‘দ্য লাঞ্চবক্স’ ছবিতে ইরফান খানের অভিনয় বৈশ্বিক সমালোচক ও দর্শকদের কাছে দারুণ প্রশংসিত হয়। এরপর তিনি আরও কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেন। এ তালিকায় রয়েছে ‘হায়দার’ (২০১৪), ‘পিকু’ (২০১৫), ‘পান সিং তোমর’ (২০১২), ‘তলোয়ার’ (২০১৫) ও ‘ব্ল্যাকমেইল’ (২০১৮)।
ইরফান খান অভিনীত সর্বোচ্চ আয় করা ছবি ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হিন্দি মিডিয়াম’। ২০১২ সালের হলিউডের ‘অ্যামেজিং স্পাইডার ম্যান’-এ অভিনয় করে প্রশংসিত হন প্রয়াত এই অভিনেতা। এছাড়া হলিউডের ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’, ‘লাইফ অব পাই’-এ অভিনয় করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘দ্য সং অব স্করপিয়নস’।
বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ডুব’-এ একজন লেখকের ভূমিকায় দেখা গেছে তাঁকে।






