হুমায়ূন ফরীদির প্রয়াণ দিবস আজ

ফাইল ছবি
দিন পঞ্জিকার পাতায় সেদিন ছিল ১ ফাল্গুন, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ। চারদিকে যখন বাসন্তী রঙের উৎসব, ঠিক তখনই ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। উৎসবের রঙ ফিকে করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন অভিনয়ের মহীরুহ হুমায়ূন ফরীদি।
অদ্ভুত এক বৈপরীত্যের নাম ফরীদি। একদিকে তিনি ‘সংশপ্তক’ নাটকের সেই কুটিল ‘কানকাটা রমজান’, অন্যদিকে বাস্তব জীবনে এক নিঃসঙ্গ অভিমানী সম্রাট। প্রশ্ন জাগে, কেন বিদায়ের জন্য ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনটি বেছে নেয়া হলো? হয়তো কোনো এক নিভৃত অভিমানে কিংবা বিষাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ হয়ে বেঁচে থাকার তাড়নায়।
অর্থনীতি থেকে উঠে আসা এই ছাত্রটি সেলিম আল দীনের হাত ধরে নাট্যঙ্গনে যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তা আজও অতুলনীয়। মঞ্চ, টেলিভিশন কিংবা রূপালি পর্দা—যেখানেই পা রেখেছেন, সেখানেই গড়েছেন অনন্য উচ্চতা। হুমায়ূন আহমেদের রাজত্বকালেও সংশপ্তকের রমজান হয়ে তিনি কেড়ে নিয়েছিলেন সব আলো। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বলতেন, ‘বাণিজ্যিক ছবির কাজ হলো ছবিটাকে পণ্য করে তোলা।’ তাই সেখানে তিনি নিজেকে ভেঙেছেন বারবার।
ব্যক্তিগত জীবনে সুবর্ণা মোস্তফার সাথে বিচ্ছেদ কিংবা দীর্ঘ নিঃসঙ্গতা— ফরীদি সবটাই আড়াল করেছিলেন তার অভিনয় দিয়ে। কিন্তু আক্ষেপ ছিল স্বীকৃতির। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এই মানুষটি কি একটি একুশে পদক পেতে পারেন না?’ মৃত্যুর ছয় বছর পর ২০১৮ সালে মরণোত্তর একুশে পদক যখন ঘোষণা করা হলো, তখন ফরীদি হয়তো বহুদূরের কোনো নক্ষত্রলোক থেকে মুচকি হাসছিলেন। ঠিক সেই রমজানের মতোই— যেন জাতির কানটা আরেকবার কেটে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ‘আমি ফরীদি, স্বীকৃতি ছাড়াই আমি অজেয়।’
ফরীদি নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি আছে। বসন্ত এলেই যেমন কোকিল ডাকে, তেমনি প্রতিটি ফাল্গুনের শুরুতে বাংলার মানুষের মনে পড়বে সেই অদ্ভুত মানুষটিকে, যিনি কান হারিয়েও জয় করেছিলেন কোটি হৃদয়।



