১৭ বছর পর সংস্কার হচ্ছে খালেদা জিয়া ছাত্রী হোস্টেল

নীলফামারীর সৈয়দপুর মহিলা কলেজের বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীনিবাস। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক টানাপড়েন ও নামকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অবহেলার পর অবশেষে সংস্কারের মুখ দেখছে নীলফামারীর সৈয়দপুর মহিলা কলেজের ‘বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীনিবাস’।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ভবনটির জরুরি মেরামতের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ৪০ লাখ টাকা। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, চার তলাবিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৯২ সালে এবং নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৩ সালে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করা ভবনটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৭ বছরে কোনো ধরনের সংস্কার বা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অযত্ন-অবহেলায় ভবনটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ভেঙে গেছে জানালা, আর প্রায় অচল হয়ে পড়েছে পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থাও। ৮৪ জন ছাত্রীর আবাসনের উপযোগী ভবনটি এখন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বসবাসের। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে মাত্র ৩০ জন ছাত্রী।
আবাসিক শিক্ষার্থী সাথি ও জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার আতঙ্কে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। প্রতিদিনই ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় তাদের।
বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর গত ২৬ এপ্রিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয় সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন।
শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক দেওয়ান জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহিন সাহাব বলেছেন, ২০২৪ সালে একবার বরাদ্দ এলেও রাজনৈতিক কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপ সময়োপযোগী।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী ইকবাল।



