শুদ্ধি অভিযান শুরু
মাউশি ও এনসিটিবির শীর্ষ পদে রদবদল

বি এম আব্দুল হান্নান, ড. রিয়াদ চৌধুরী, নাজমুল হক ও আবু নাছের টুকু (বাঁ থেকে) : ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে শিক্ষা প্রশাসনে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার দুটি শীর্ষ দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুই কর্মকর্তাকে।
তারা হলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আলোচিত সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. রিয়াদ চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কর্মকর্তা বলছেন, এনসিটিবিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরানোর শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে আলোচিত সদস্য ড. রিয়াদ চৌধুরীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে কুমিল্লা সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। ১৪তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বই ছাপার সিন্ডিকেট করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এর আগে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, নায়েমসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী পদে আসীন ছিলেন। তার স্থলে নতুন সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এনসিটিবির উৎপাদন নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবু নাসের টুকু। দুই বছর ধরে প্রাথমিকের মানসম্মত পাঠ্যবই সময়মতো ছাপিয়ে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় তাকে পদায়ন করা হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে।
এ ছাড়া মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) তথা ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা বি এম আব্দুল হান্নানকে ওএসডি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ফরিদপুরের সরকারি আইন উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে নতুন সচিব হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন। দিনাজপুর বোর্ডে নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. বোরহান উদ্দীনকে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন ওই দিন বিকেলেই।

