শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

সংগৃহীত ছবি
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে বেকারত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে।
শনিবার জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক মামুন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থানমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও উৎপাদনশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইউজিসির এই সদস্য বলেন, সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনায় জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্রমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চা এবং আনন্দময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ওয়াই-ফাই ও অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক মামুন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যবিজ্ঞান, রোবটিকস ও সাইবার নিরাপত্তার মতো ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ উদ্যোগে স্বল্পমেয়াদি কোর্স, ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। ইউজিসির সাম্প্রতিক আলোচনাতেও এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাই করে দেশব্যাপী প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘তরুণদের জন্য সরকারের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোক্তা সহায়তা কার্যক্রমগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ইউজিসির এই সদস্য। এ সময় শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
এর আগে একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন রুরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ইন-চার্জ) ড. মো. আবদুল মজিদ প্রামাণিক এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলী হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এতে গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন, শিল্পায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।




