পদত্যাগ করলেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ

সংগৃহীত ছবি
দেড় বছরের বেশি দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক শাহ। দায়িত্বকালে তিনি ৪২টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন হলের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রায়।
জানা গেছে, পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে যেতে চান ফারুক শাহ। এজন্য উপাচার্য বরাবর ছুটির আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদন অনুমোদিত হয় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল)। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয় নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ সেপ্টেম্বর জহুরুল হক হলের নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ফারুক শাহ ।
হলজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক পানির ফিল্টার স্থাপন, কক্ষ সংস্কার, নতুন ফ্যান সরবরাহ ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা উন্নয়নসহ আরও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন ফারুক শাহ।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও দৈনন্দিন সুবিধা বাড়াতে রিডিং রুম, টিভি রুম, গেস্ট রুম ও ক্যান্টিন সংস্কার, সবুজায়ন কার্যক্রম, সুপারশপ স্থাপন, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ, ওয়াশরুম ব্যবস্থা এবং মশা ও ছারপোকা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি।
প্রায় ৯৫টি কক্ষ সংস্কার, ভবনের ছাদ মেরামত, লন্ড্রি ও ওয়াশরুম উন্নয়ন এবং পুকুরপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ কিছু কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল প্রাণবন্ত রাখতে রি-ইউনিয়ন, পিঠা উৎসব ও নবীনবরণ আয়োজনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখেন সদ্য পদত্যাগ করা এ প্রাধ্যক্ষ।
বিদায়ী প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফারুক শাহ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। হলকে আরও বাসযোগ্য, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করেছি আন্তরিকভাবে। নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত এই হল থেকেই প্রাধ্যক্ষ হিসেবে বিদায় নেওয়াকে তিনি গর্ব ও আবেগের একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’















