জাল সনদ : প্রথম ধাপে চাকরি হারাচ্ছেন ১৭৭ শিক্ষক
- স্কুল-কলেজের ৬৩, মাদরাসার ১১৪ জনকে শোকজ
- ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে মামলা
- হতে পারে ফৌজদারি ও অর্থ মামলা

প্রতীকী ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল ও ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি বাগিয়ে নেওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অ্যাকশন শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে দেশ জুড়ে চিহ্নিত ৭৩৩ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে প্রথম ধাপে ১৭৭ জনকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ফেরত নেওয়ার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। টাকা ফেরত না দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অর্থ আদালতে মামলাসহ হতে পারে ফৌজদারি মামলাও।
জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শনি ও রবিবার (২৩ ও ২৪ মে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও শিক্ষা প্রশাসনের দুই শীর্ষ বিভাগ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রথম ধাপের এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এর অংশ হিসেবে স্কুল-কলেজের ৬৩ জন এবং মাদরাসার ১১৪ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি ও এমপিও বাতিলের ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস পাঠানো হয়েছে। কারিগরি অধিদপ্তরের আওতাধীন জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ঈদের পর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ডিআইএ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দফায় মোট ৭৩৩ জন শিক্ষকের সনদ জাল চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায় ৪৭১ জনের তালিকা গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
গত ২৭ এপ্রিল মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগে ২৬২ জন জাল সনদধারী তথ্য পাঠিয়ে একই সুপারিশ করে সংস্থাটি। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ফেরত আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। ২৬২ জনের মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও বাকি ১১ জনের বিপিএড, বিএড বা গ্রন্থাগার বিষয়ের সনদ জাল।
ডিআইএ তথ্য বলছে, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বেশি জালিয়াতি হয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদে, ২২৯ জন। এনটিআরসিএ বা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল করেছেন ১৯৪ জন এবং বাকিরা বিএড, বিপিএড ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের ভুয়া সনদ ব্যবহার করেছেন। এই ৪৭১ জন শিক্ষকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। সর্বমোট ৭৩৩ জন বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার কাজ শুরু করেছে দপ্তরগুলো।
কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকরা প্রথম ধাপে তাদের নিয়োগ বাতিল করে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা, এরপর ডিআইএর সুপারিশ অনুযায়ী চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া মোট ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। যদি তারা টাকা ফেরত না দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের জন্য অর্থ আদালতে মামলা করা হবে। স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে তাদের এমপিও সুবিধা। সরকারি ডেটাবেজ থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে তাদের নাম। এরপর জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে। একই সঙ্গে যারা জেনেবুঝে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন, সেইসব পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, জাল সনদে চাকরি করা শিক্ষকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে বেতন বন্ধ ও অর্থ ফেরতের সুপারিশ করেছি। এখন ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।






