জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চান মার্কিন বিনিয়োগকারীরা
- বিডার সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক

বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসার ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং টেকসই নীতিগত সমর্থন চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি কাস্টমস ও লজিস্টিকস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক নজরদারি প্রত্যাশা করেছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পক্ষে এ তাগিদ দেওয়া হয়। ২৫টি শীর্ষস্থানীয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত এই বহরটিকে এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সফরের মূল উদ্দেশ্য কখনোই তাৎক্ষণিক কোটি কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব ঘোষণা করা নয়; বরং এর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সরাসরি পরখ করা, সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া এবং দেশে এরই মধ্যে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করা।
ইউএস কাউন্সিলের অতীত সফরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ধারাবাহিক বৈঠকগুলোর ইতিবাচক ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে। প্রতিনিধিদলগুলো সফর শেষে তাদের পর্যবেক্ষণ দেশটির নীতিনির্ধারক ও মূল করপোরেট হাউজগুলোতে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়। ফলে তাৎক্ষণিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত না হলেও, এ সফরগুলো ভবিষ্যতের বড় অঙ্কের বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৈঠকে বিডার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার এরই মধ্যে একাধিক বড় ধরনের পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার করেছে। সম্প্রতি বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপিএ কর্তৃপক্ষকে এক ছাতার নিচে এনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একক ও শক্তিশালী বিনিয়োগ সংস্থা গঠনের আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, একাধিক সংস্থার দ্বারে দ্বারে না ঘুরে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা যেন এক দরজাতেই সব ধরনের সেবা পান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও আধুনিকায়নকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে শুল্ক প্রক্রিয়া আরও আধুনিক করার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন তারা।
বিডা কর্মকর্তারা বলছেন, সার্বিকভাবে এ সফর সরাসরি নতুন কোনো বড় বিনিয়োগের তাৎক্ষণিক ঘোষণা না আনলেও, সংস্কার ও আস্থা বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে, তা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে এক আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।




