Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
EN
  • সর্বশেষ
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় অর্থনীতি

দেশের বেশিরভাগ সম্পদ ১০ শতাংশের হাতেই

হামিদ-উজ-জামান
হামিদ-উজ-জামান
agamir somoy
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৬
দেশের বেশিরভাগ সম্পদ ১০ শতাংশের হাতেই

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঝুলিতে প্রাপ্তি বহু। সাফল্যও কম নয়। অবশ্য সেই উজ্জ্বলতার চাদরের নিচে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এক গভীর ক্ষত। নাম তার বৈষম্য। কোটি মানুষের শ্রমে-ঘামে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা। অথচ সেই অর্জনের সিংহভাগ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক মানুষের হাতে। সব মিলিয়ে চরম আয় বৈষম্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে দেশের অধিকাংশ সম্পদ। ফলে তাদের আয়ও বাড়ে লাফিয়ে।

খোদ সরকারি হিসাবই বলছে, শীর্ষ ১০ শতাংশের আয় সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের সামষ্টিক আয়ের ৩ দশমিক ১৮ গুণ বেশি। গত চার দশকে দেশে আয়বৈষম্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে ক্রমাগতভাবে। কেননা ওপরে থাকা মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, এর চেয়ে অনেক বেশি হারে কমেছে নিচের দিকে থাকা মানুষের আয়।

অন্যদিকে দেশে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। ফলে একসময়ের সাফল্যের গল্প এখন মলিন হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত মানুষরা রয়েছেন চরম দারিদ্র্যঝুঁকিতে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। পঞ্চবার্ষিক স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। চলতি অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত যা বাস্তবায়নের লক্ষ্য।

ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় বৈষম্য একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, জাতীয় গিনি সহগ (বৈষম্য পরিমাপক) হলো শূন্য দশমিক ৪৯৯। এটি উচ্চবৈষম্য বোঝায়। দারিদ্র্য ও বৈষম্যের তথ্যে শহুরে ও গ্রামীণ অগ্রগতির মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট। যেখানে গ্রামীণ গিনি সহগ শূন্য  দশমিক ৪৪৬, সেখানে শহুরে গিনি সহগ শূন্য দশমিক ৫৩৯, যা শহরাঞ্চলে বেশি। অর্থাৎ উচ্চতর, যা ইঙ্গিত করে যে, আয়বৈষম্য শহরাঞ্চলে আরও প্রকট। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে অসম প্রবেশাধিকার কাঠামোগত বৈষম্যকে শক্তিশালী করে চলেছে ক্রমাগত।

ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলছে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে জনাকীর্ণ বসতি, অপর্যাপ্ত আবাসন, অপ্রতুল সরকারি পরিষেবা এবং ক্রমবর্ধমান নগরবৈষম্য দেখা দিচ্ছে। অনেক নগরকর্মী সামাজিক সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান সুরক্ষা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিক ও স্বল্প বেতনের পেশায় নিযুক্ত থাকেন, যা তাদের মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক মন্দার মুখে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

আরও বলা হয়েছে, ১৯৮৩-৮৪ সালে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় ছিল সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত আয়ের প্রায় দেড় গুণ। ২০২২ সাল নাগাদ, এই অনুপাত দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ১৮-এ পৌঁছেছিল, যা ছিল এর সর্বোচ্চ পর্যায়। এ সময়ে সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশ তীব্রভাবে কমে যায়। অন্যদিকে শীর্ষ ১০ শতাংশের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি হয়েছিল। যদিও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু এর সুবিধাগুলো অসমভাবে বণ্টিত হওয়ায় সুফল মেলেনি। যার বেশিরভাগ সুবিধা উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীগুলোই ভোগ করেছে। বৈষম্য ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে প্রভাবিত করেছে, যাদের আয়ের অংশ ২০২২ সালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

বৈষম্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্যও: জিইডি বলছে, বৈষম্যের সঙ্গে দরিদ্রতার সম্পর্ক গভীর। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য এখনো অন্যতম প্রধান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সূচকের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। লাখ লাখ মানুষ মুক্তি পেয়েছে চরম দারিদ্র্য থেকে। এই হার ১৯৯১-৯২ সালের ৪১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর থেকে বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। কমেছে শিশুমৃত্যুও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দারিদ্র্যের প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে।

দারিদ্র্য ক্রমবর্ধমানভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, কর্মসংস্থান নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করে। অনেক পরিবার যারা নামমাত্র দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছে, তারাও অর্থনৈতিক ধাক্কা, অসুস্থতা, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগ বা আকস্মিক আয় কমার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্য ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে এবং একই সময়ে  চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রবৃদ্ধির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন: ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলেছে, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং ঝুঁকির ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মডেলের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য জাতীয় আয় তৈরি করেছে, তবুও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রম উৎপাদনশীলতা, সরকারি ব্যয়ের গুণমান এবং সুযোগের ন্যায়সংগত প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে পদক্ষেপ: আগামী পাঁচ বছরে বৈষম্য কমিয়ে দরিদ্রতা নিরসনে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে ফ্রেমওয়ার্কে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বণ্টনগত প্রভাব উন্নত করা, প্রবৃদ্ধি-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রকৃত আয় বৃদ্ধির মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং শ্রমবাজার সংস্কার।

এ ছাড়া খাতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য সহায়তা, অল্প সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য অবস্থার মূল্যায়ন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাজের মান-মজুরি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করা হবে।

আরও আছে— আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক রূপান্তরে সহায়তা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বাজেট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ।

    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    সৈকতের বুকে সড়ক!

    সৈকতের বুকে সড়ক!

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১২

    ভাতা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ

    ভাতা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৭

    বৃদ্ধের পায়ের রগ কাটার পর বাড়িতে হামলা, অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ

    বৃদ্ধের পায়ের রগ কাটার পর বাড়িতে হামলা, অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৭

    এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫১

    জলবায়ু পরিবর্তন বদলে দিচ্ছে ইউরোপের উষ্ণতম শহরটির জীবনযাত্রা

    জলবায়ু পরিবর্তন বদলে দিচ্ছে ইউরোপের উষ্ণতম শহরটির জীবনযাত্রা

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:০১

    মহেশখালীর পাহাড়ে দেশীয় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান

    মহেশখালীর পাহাড়ে দেশীয় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৫

    উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে ভাঙা হয় গৃহবধূর দাঁত, কাস্তে গরম করে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা

    উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে ভাঙা হয় গৃহবধূর দাঁত, কাস্তে গরম করে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা

    ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪১

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রীর ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগ, কড়া জবাব ছাত্রদল নেত্রীর

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রীর ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগ, কড়া জবাব ছাত্রদল নেত্রীর

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫২

    অটোরিকশাকে ট্যাংক লরির চাপা, একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

    অটোরিকশাকে ট্যাংক লরির চাপা, একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫৭

    সরাইলে নৌকাবাইচে লাখো মানুষের ঢল

    সরাইলে নৌকাবাইচে লাখো মানুষের ঢল

    ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭

    পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ লাখ ১৪ হাজার, ইংরেজি ও গণিতে বেশি

    পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ লাখ ১৪ হাজার, ইংরেজি ও গণিতে বেশি

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪৮

    ফের মুখোমুখি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষা ক্যাডার

    ফের মুখোমুখি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষা ক্যাডার

    ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৬

    ‘তৌহিদী জনতার’ বাধায় নৌকা বাইচ বন্ধ হবে না : ইউএনও

    ‘তৌহিদী জনতার’ বাধায় নৌকা বাইচ বন্ধ হবে না : ইউএনও

    ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪

    রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত পাইলট, বিদেশি জাহাজ আটক

    রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত পাইলট, বিদেশি জাহাজ আটক

    ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫১

    ‘৩১ সালে এনসিপি সরকারি দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে’

    ‘৩১ সালে এনসিপি সরকারি দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে’

    ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬

    advertiseadvertise