৮ ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক আর্থিক ফল প্রকাশ
ডাচ-বাংলা ও এনআরবিসির দাপট, পিছিয়েছে এবি-আইএফআইসি

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৮ ব্যাংকের চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে এবং ৩টি ব্যাংকের পারফরম্যান্সে অবনতি হয়েছে। মুনাফা বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক। অন্যদিকে লোকসান বেড়েছে এবি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের। এছাড়া মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) ও ওয়ান ব্যাংকের মুনাফা কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এনআরবিসি ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৬৬৩ শতাংশ বেড়ে ০.৬১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.০৮ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির ইপিএস ০.০০৩ টাকা থেকে বেড়ে ০.৪৭৯ টাকায় পৌঁছেছে, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.৪৬ টাকা।
মুনাফা বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটির ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস ৩১৮ শতাংশ বেড়ে ৪.৩৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১.০৪ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ০.১৭ টাকা থেকে বেড়ে ১.৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস হয়েছে ৬১.১৫ টাকা।
এসবিএসি ব্যাংকের ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস ২১ শতাংশ বেড়ে ০.১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ০.১৪ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ০.০১ টাকা থেকে বেড়ে ০.০৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকটির এনএভিপিএস ১৩.৭১ টাকা।
অন্যদিকে পূবালি ব্যাংকের ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৪.৩৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩.৭০ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ২.৫১ টাকা থেকে বেড়ে ২.৯৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৮.৯০ টাকা।
অপরদিকে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস ৭ শতাংশ কমে ০.৯৯ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ১.০৭ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ইপিএস ৪১ শতাংশ কমে ০.১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটির এনএভিপিএস হয়েছে ২৮.১৬ টাকা।
ওয়ান ব্যাংকের ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস ৮ শতাংশ কমে ০.৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ০.৮৫ টাকা। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস ৮৩ শতাংশ বেড়ে ০.৪৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২.৯৯ টাকা।
অন্যদিকে এবি ব্যাংকের ছয় মাসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান ১০ শতাংশ বেড়ে ২১.৬২ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ১৯.৬৩ টাকা। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান ২৬ শতাংশ কমে ১২.৪১ টাকায় নেমে এসেছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক ৫৭.৮৫ টাকা।
সবশেষে আইএফআইসি ব্যাংকের ছয় মাসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৮.৬৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৫.৮৭ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসান ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪.২০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ঋণাত্মক ৩.৬৯ টাকা।






