ঋণ পরিশোধ না করায় বড় আর্থিক জটিলতার শঙ্কায় একমি পেস্টিসাইডস

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিতর্কিত কোম্পানি একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ ঋণ জটিলতায় জড়িয়েছে। ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঋণ ও লিজ দায় পরিশোধ করছে না তারা। এ নিয়ে কোম্পানিটিকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরেও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। যা কোম্পানিটিকে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতার মধ্যে নিয়ে গেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
এ ছাড়া কোম্পানিটি প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি ও ৭১ লাখ টাকার লভ্যাংশের ওপর আয়কর প্রদান না করার মতো জটিলতায় রয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির এফডিআর ফ্রিজ করে রেখেছে উচ্চ-আদালত।
কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক হিসাবে জানানো হয়েছে, একমি পেস্টিসাইডসের কাছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের ২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার লিজ ফাইন্যান্স রয়েছে।
তবে একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ এসব অর্থ পরিশোধ করছে না। এ নিয়ে এমটিবি কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর মৌখিকভাবে জানায় এবং ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে।
আর ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে। তারপরেও ঋণ ও লিজের অর্থ পরিশোধ করেনি একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ।
একমি পেস্টিসাইডসের ঋণ ও লিজের অর্থ পরিশোধ না করার কারণেে এই বিষয়টি কোম্পানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও আইনি জটিল পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ লভ্যাংশের ওপর ৭১ লাখ টাকার আয়কর প্রদান করেনি। তবে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ি ১৫ দিনের মধ্যে এই কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
কোম্পানিটির কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের জন্য ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কর দাবি করেছে। যার বিরুদ্ধে আপিল করেছে একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কোম্পানিটির ৫.৫০ কোটি টাকার এফডিআর ফ্রিজ করে রেখেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এমনটি করে রেখেছে ব্যাংকটি।
এসব বিষয়ে জানতে একমি পেস্টিসাইডসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া একমি পেস্টিসাইডসের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৩৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.২০ শতাংশ। কোম্পানিটির গতকাল শনিবার (০৪ এপ্রিল) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ২০.৭০ টাকায়।

