ব্যাংক খাতের লেনদেনে ভর করে ইতিবাচক ধারায় শেয়ারবাজার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আজ বুধবার লেনদেন শেষে দেশের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতার মধ্যেও সূচকে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে ব্যাংক খাতে ক্রমাগত শেয়ার সংগ্রহের প্রবণতা বাজারে স্থিতিশীলতা এনে দেয়। তবে একই সঙ্গে সতর্ক মনোভাবের কারণে অনেক খাতে বিক্রির চাপও দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দিনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মধ্যবর্তী সময়ে বিক্রির চাপের কারণে কিছুটা নিম্নমুখী সংশোধন হয়। তবুও শেষ পর্যন্ত আয়ের প্রত্যাশা ও ডিভিডেন্ডকেন্দ্রিক আশাবাদের কারণে সূচকের ইতিবাচক অবস্থানে দিনের লেনদেন শেষ হয়। তবে লেনদেন গত দিনের থেকে কিছুটা কমেছে।
দিন শেষে ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্টে বেড়ে ৫৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ পয়েন্ট বেড়ে ১০৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২০২০ পয়েন্ট স্থির হয়েছে।
লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১৬৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টির। দিনভর লেনদেন হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গতকাল লেনদেন হয়েছিল ১০২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বাজারের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাত সর্বোচ্চ লেনদেন দখল করে বাজারকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এর পরই ছিল জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও টেক্সটাইল খাত। সেবা, খাদ্য ও ব্যাংক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে ট্রাভেল, আইটি ও পেপার খাতে দরপতন লক্ষ করা গেছে। বাজারের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও কিছু নির্বাচিত খাতে ক্রয়চাপ বাজার স্থিতিশীল রেখেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে, যা বাজারের মিশ্র প্রবণতারই প্রতিফলন। সিএসইর প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪৮৯৯ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির। কমেছে ৮৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে না এলেও নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক বিনিয়োগ ও আয়ের প্রত্যাশা বাজারকে ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
আজ বুধবার দিন শেষে ডিএসইতে ৯.৮২ শতাংশ দাম বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। ৯.৬৮ শতাংশ দর বেড়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিডি থাই ফুড। প্রতিষ্ঠানটির দর বেড়েছে ৯.৬৩ শতাংশ। এর পরে রয়েছে স্কয়ার নিট কম্পোজিট, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, হামিদ ফেব্রিক্স, আইসিবি ইমপ্লয়েজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ব্যাংক ফাস্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড ও মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড।



