মূলধন বাড়াতে চায় আছিয়া সি ফুডস, বিএসইসিতে আবেদন

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আছিয়া সি ফুডস লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ (স্টক ডিভিডেন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে ১৩ কোটি টাকার বেশি মূলধন বাড়াতে চায়। এরই ধরাবাহিকতায় মূলধন বাড়ানোর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কমিশনের ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগের সহকারী পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাঠানো ওই আবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্যও সরবরাহ করা হয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আছিয়া সি ফুডসের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪০ টাকা। প্রস্তাবিত ৩৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে এই মূলধন প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৬৯ টাকার শেয়ার ইস্যু করবে। ফলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানিটি আবেদনে জানিয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইস্যু অব ক্যাপিটাল) রুলস, ২০০১’-এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জমা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই এই মূলধন বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনার এই রপ্তানিকারক কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক খাবার বিদেশে রপ্তানি করে আসছে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ১০০ কোটি টাকা, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত স্পেস রাখছে। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বোনাস লভ্যাংশোর মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর এই উদ্যোগ কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত কোম্পানিগুলো তাদের সঞ্চিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বোনাস শেয়ার বিতরণ করে থাকে, যা সরাসরি নগদ বহিঃপ্রবাহ ছাড়াই মূলধন বৃদ্ধির একটি কার্যকর পদ্ধতি।
তবে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বোনাস শেয়ার ঘোষণার বিষয়টি যেমন ইতিবাচক, তেমনি এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয়, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর। মূলধন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির আয়ের প্রবৃদ্ধি বজায় না থাকলে শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস) চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে আছিয়া সি ফুডস দেশের সামুদ্রিক পণ্য খাতে একটি পরিচিত নাম। খুলনায় অবস্থিত কারখানা থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করে আসছে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটি ভবিষ্যতে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে এই মূলধন বৃদ্ধি কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ, আর্থিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং বাজারে অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ ও ৩৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.১০ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.২০ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬.৯২ টাকা।
শেয়ার ধারণ পরিস্থিতি
আছিয়া সি ফুডস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২২ সালে। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০.৬৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৫.৫৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৩.৭৫ শতাংশ শেয়ার আছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আছিয়া সি ফুডসে শেয়ার সর্বশেষ ৩৪.৩০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।



