ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফায় ব্র্যাক ব্যাংক, ডিভিডেন্ডেও চমক

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের রেকর্ড গড়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে দূরদর্শী বিনিয়োগ আর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শক্তিতে ভর করে ২০২৫ অর্থবছরে এই মাইলফলক অর্জন করেছে কোম্পানিটি। তৃতীয় প্রজন্মের এই বেসরকারি ব্যাংকটি গত বছর সমন্বিতভাবে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি।
রবিবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৬.১৮ টাকা থেকে বেড়ে ৯.১২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এককভাবেও ব্যাংকটির পারফরম্যান্স ছিল চমকপ্রদ; ২০২৫ সালে নিট মুনাফা ৩০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ ক্যাশ এবং ১৫ শতাংশ স্টকসহ মোট ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ব্যাংকটির সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ড ঘোষণা। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিট সুদ আয় কিছুটা কমলেও ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ থেকে বড় অংকের মুনাফা এসেছে। উচ্চ সুদের বাজারে সরকারি বন্ড থেকে আসা আয় ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই বিনিয়োগ থেকে আয় ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল।
পাশাপাশি, ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’-এর অসামান্য অবদান মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদে বিকাশ ৫০৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া এসএমই ব্যাংকিংয়ে বিশেষ নজর এবং বাজারে চমৎকার সুনাম থাকায় কম খরচে তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছে ব্যাংকটি।
আর্থিক সূচকে দেখা যায়, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৩৯.৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫১.৫৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ৭২.৭২ টাকায়।



