লোকসানি তিতাস গ্যাসের ২৮৩ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার অনুমোদন

একসময় লাভজনক ও নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী রাষ্ট্রায়ত্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় কোম্পানিটির ২৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসের শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) ইরিডিমেবল ও নন-কিউমুলেটিভ বৈশিষ্ট্যের প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেন। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে অভিহিত মূল্যে এ শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
ইজিএমের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিএসইসিতে দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল কমিশন ২৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয়।
২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া তিতাস গ্যাস ২০২২–২৩ অর্থবছর থেকে লোকসানে পড়তে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে লোকসানের পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে একসময় লাভজনক এই কোম্পানিটি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার দরেও, যা নেমে এসেছে ১৭ টাকায়।
এ কোম্পানিটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথমবার লোকসানে নামে। ওই অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১.৬৭ টাকা করে ১৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা লোকসান হয়। এরপরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৭.৫২ টাকা করে ৭৪৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৭.৮০ টাকা করে ৭৭২ কোটি ৪ লাখ টাকা লোকসান হয়।
লোকসানের ধারাবাহিকতা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি ৩.৯৫ টাকা করে ৩৯০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
এ হিসেবে কোম্পানিটির গত সাড়ে ৩ বছরে লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৭২ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের তিতাস গ্যাসে সরকারের মালিকানা ৭৫ শতাংশ। বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের।

