১০০ মিলিয়ন ডলারের অরেঞ্জ বিনিয়োগে সমর্থন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অরেঞ্জ ইকোনমি সামিট ২০২৬- এ অতিথিরা
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অরেঞ্জ বন্ডের মতো উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০০ মিলিয়ন ডলারের অরেঞ্জ বিনিয়োগে পূর্ণ সমর্থন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’
আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত ‘অরেঞ্জ ইকোনমি সামিট ২০২৬ : ঢাকা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
সামিটটি যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই), ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)।
এতে ডেপুটি গভর্নর উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশের জন্য একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় আর্থিক বাজার গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে অরেঞ্জ অর্থনীতি এবং অরেঞ্জ বন্ডের মতো বিকল্প অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সামাজিক প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু সহনশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিএসই টেকসই অর্থায়ন, করপোরেট সুশাসন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে কাজ চলছে। অরেঞ্জ অর্থনীতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক দুররীন শাহনাজ বলেছেন, আইআইএক্সের এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘অরেঞ্জ ক্লাইমেট ফান্ড’-এর আওতায় বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় অরেঞ্জ অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. এম আশিকুর রহমান জানান, এলডিসি উত্তরণ ও এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। অর্থনীতির বিদ্যমান কাঠামোগত চাপ এবং ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, বন্ড ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল একটি উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রিয়াঙ্ক তিওয়ারি, আন্ত্যা উইদিতা, জোনাথন আবেউইক্রমা, দেবাশীষ রায় প্রমুখ।
আলোচনায় বাংলাদেশে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।





