আগামীর সময়

ঝুঁকির ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের প্রভিশনিংয়ের রূপরেখা নির্ধারণ

ঝুঁকির ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের প্রভিশনিংয়ের রূপরেখা নির্ধারণ

সংগৃহীত ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন স্টান্ডার্ড (আইএফআরএস)-৯ পদ্ধতি চালুর রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জারিকৃত রোডম্যাপ অনুযায়ী দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ক্রেডিট সুবিধার জন্য ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।

এছাড়া, জানুয়ারি ২০২৯ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে। নতুন মানদণ্ড চালু হলে ঝুঁকির ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের প্রভিশনিং সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার (৮ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যাশিত ঋণের ক্ষতি (ইসিএল) বিবেচনায় বিশেষ কাঠামো বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যাংকগুলো ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যদিও আগে খেলাপি এবং ক্ষতির অবস্থা অনুযায়ী প্রভিশনিং করা হত।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রভিশনিং পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মধ্যে বর্তমান ব্যবস্থায় ঋণের অবস্থা অবনতি হলে বা নির্দিষ্ট সময় বকেয়া থাকলে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু নতুন আইএফআরএস-৯ কাঠামোর অধীনে ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম প্রভিশন গঠন করতে হবে। ফলে ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঝুঁকি মূল্যায়নে পর নতুন ব্যবস্থায় অতীত তথ্যের পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রবৃদ্ধি, সুদের হার, মূল্যস্ফীতি প্রভৃতি আমলে নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ঋণ তিনটি ধাপে শ্রেণিকরণ করা হবে তার মধ্যে প্রথম স্তরে স্বাভাবিক ঋণের জন্য ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশনিং করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ঋণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে ঋণের জীবনকাল (লাইফটাইম) নির্ধারণ করে প্রভিশনিং করতে হবে। সর্বশেষ বা তৃতীয় স্তরে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এবং ঋণের পুরো মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশনিং করতে হবে।

এদিকে নতুন কাঠামোর অধীনে ঋণের ঝুঁকির স্তরের ভিত্তিতে সুদ আয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হবে, যা ব্যাংকের প্রকৃত আয় ও ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত করবে। আর উন্নত ডেটা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাংকগুলোকে উন্নত ডেটা অবকাঠামো, ঝুঁকি মডেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে ব্যাংকিং খাতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে।

    শেয়ার করুন: