বাংলাহিলি বাজারে পুরনো রেইনট্রি গাছের শুকনো ডাল এখন মৃত্যুর ফাঁদ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দরের স্থানীয় বাংলাহিলি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পুরনো রেইনট্রি গাছের বড় শুকনো ডাল ঝুলে আছে। প্রধান সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এসব ডাল যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী-শিশু, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন। সামান্য বাতাস উঠলেই শুকনো ডালগুলো দুলতে থাকে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, রেইনট্রি গাছের ডালগুলো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে এবং এখন সেগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত অপসারণ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দোকানি হুমায়ুন উল্লেখ করেছেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব গাছের নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। শুকনো ডাল ভেঙে পড়লে দোকান ও পথচারীদের বড় ক্ষতি হতে পারে।
২০১৬ সালে একটি রেইনট্রি গাছের ডাল ভেঙে তার চেম্বারের ওপর পড়েছিল। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান
পথচারী মিজানুর রহমানের ভাষ্য, নিয়মিত বাজারে যাতায়াত করতে হয়, কিন্তু পুরনো গাছের শুকনো ডালগুলো নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
বাংলাহিলি পাইলট স্কুল ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, প্রতিদিন তারা ভয় নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কেন এখনো ডালগুলো কাটা হচ্ছে না, তা তাদের বোধগম্য নয়।
পল্লীচিকিৎসক এহসান উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ সালে একটি রেইনট্রি গাছের ডাল ভেঙে তার চেম্বারের ওপর পড়েছিল। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাহিলি হাট ও বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান আলী প্রধান জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ডাল অপসারণ জরুরি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এসব গাছ কাটার সুযোগ নেই, তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



