'জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জরুরি'

রাজশাহীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা— সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
আজ শনিবার বিকালে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা আরো বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশা ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত।
সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি ও গবেষক-সাংবাদিক সরদার আবদুর রহমান, সাবেক সভাপতি ও কথাশিল্পী ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী।
সভায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক আমার দেশের রিপোর্টার এম শামীমসহ অন্যরা। সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গুজব, অপতথ্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে দূরে থাকতে হবে। ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী কোনো পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকদের স্বাধীন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা- দুটিই বাস্তবতার ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তারা বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় পেশাজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিজ নিজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।
বক্তারা আরও বললেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সামাজিক বিভাজন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, রাষ্ট্রের ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ইতিবাচক উদ্যোগও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দায়িত্বশীল সেতুবন্ধন হিসেবে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ, পেশাদার ও নৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।





