আড়াইহাজারে আলোচনায় ‘লাল বাদশা’

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কোরবানির পশুর হাটে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২০ মণ ওজনের শাহীওয়াল জাতের একটি ষাঁড়।
‘লাল বাদশা’ নামের এই ষাঁড়টি শুক্রবার (২৩ মে) আড়াইহাজার পৌরসভা পশুর হাটে তোলা হলে মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন। পরে ১২ লাখ টাকায় ষাঁড়টি কিনে নেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার ছোট ভাই শিল্পপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
ষাঁড়টির মালিক ছগীর মিয়া জানান, চার বছর ধরে দেশীয় খাবার খাইয়ে তিনি গরুটি লালন-পালন করেছেন। প্রতিদিনই আশপাশের মানুষ গরুটি দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করতেন। ন্যায্য দাম পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট বলেও উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এ বছর ভারতীয় পশু না আসায় দেশীয় গবাদিপশুর চাহিদা বেড়েছে। এতে ছোট-বড় খামারিরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন।
এদিকে একই হাটে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে একটি মহিষও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ১৮ মণ ওজনের মহিষটির দাম হাঁকা হচ্ছিল ৬ লাখ টাকা।
মালিক মিজান মিয়া দাবি করেন, চার বছর ধরে তিনি মহিষটি লালন-পালন করেছেন। হাটে সেটিকে ঘিরেও মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেকে মহিষটির সঙ্গে ছবি তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন।
স্থানীয় খামারি আলাউদ্দিন জানান, তিনি এবার হাটে ১৫টি ষাঁড় তুলেছেন। পশুর ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হাঁকা হচ্ছে। শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক দেশীয় গবাদিপশু ওঠে। যদিও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির কারণে হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি হাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে রাখা হয়েছে বিশেষ মেশিন। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকও দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আড়াইহাজার পৌরসভা পশুর হাটের ইজারা নিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল। হাট পরিচালনা কমিটির প্রধান মোবারক হোসেন জানান, সার্বিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো হাট এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানালেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে হাট পরিচালনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র এএসপি (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।






