খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ

ছবি: আগামীর সময়
খুলনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেছেন, অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তদারকি করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।
রকিবুল ইসলাম বকুলের ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের পর জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে তৎপর থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ রানা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রথমে ১১টি এবং পরে আরও ৩টি ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
টুটপাড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে না পড়লেও ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর সময় সাতজন ফায়ার ফাইটার সামান্য আহত হন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট, দুটি জেনারেটর, কিছু ওষুধ, আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে ২৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই আইসিইউ সাপোর্টে ছিলেন। ভর্তি থাকা সব রোগীকে খুলনার আদ-দ্বীন হাসপাতাল, নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো রোগী বা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী হতাহত হননি।




