‘কথা না শুনলে খাটিয়ায় তুলে পাঠিয়ে দেব’, ওসি-ইউএনওকে বিএনপি নেতা

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানার ওসি-ইউএনওসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে।
গত রবিবার (১০ মে) রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় হুমকি দেন। আজ মঙ্গলবার তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়- নেতাকর্মীদের সামনে এনামুল হক বলছেন, ‘চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।’
‘ও ওসি তুই যদি আর হতা ন হনুস রাতিয়া গাট্টি গোল গরা পরিবো।’ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার এ বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, ‘ওসি যদি কথা না শোনে তাহলে কাপড়চোপড় গুছিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
একইসঙ্গে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদেরও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে রাতেই গাট্টি (কাপড়চোপড়) বেঁধে রাখার চেষ্টা করো।’
বিএনপির এ নেতা বলেছেন, ‘আরও বড় বড় কর্মকর্তা যারা আছে, অফিসার-পিয়ন আছে, আলটিমেটাম দেবেন, এই কাজটা করে দিবি। ১৫ দিন সময় দেবেন। এর ভেতর যদি না করিস, মসজিদ থেকে খাটিয়া আনবো, তোকে ওখানে শুয়াবো। তারপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেব। তোর আর থাকতে হবে না।’
তার এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমন বক্তব্যকে অশোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বক্তব্যে অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের সতর্কও করেন এনামুল হক। একইসঙ্গে বৈধভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি, পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাসেমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা।
বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে বিএনপি নেতা এনামুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের এলাকা হোম মিনিস্টারের এলাকা। জনগণই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে তাকে। তাই কোনো বৈধ কাজ যদি তারা করে না দেন, তাহলে ইউএনও-ওসির এমন পরিণতির কথা বলেছি।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে এনামুল হক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘কিছুদিনের জন্য আমাদের লোভ সামলাতে হবে। আমরা কিছুদিন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল করব না।’
যদিও এ বিষয়ে তার দাবি, তিনি সবসময় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ‘আমি কিছুদিনের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব,’ বলেছেন তিনি।





