শরণখোলা
১৮ দিনে উদ্ধার ১০ অজগর-গোখরো, এলাকায় আতঙ্ক

ছবি : মহিদুল ইসলাম
সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন গ্রাম থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে বিশাল অজগরসহ নানা প্রজাতির বিষধর ও নির্বিষ সাপ। অধিকাংশ সাপই পাওয়া যাচ্ছে বসতঘর, মাছের ঘের, হাঁস-মুরগির খোপ এবং ধানক্ষেতে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে শরণখোলা উপজেলার বকুলতলা গ্রামের আব্দুর রহমানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি অজগর। পরে সেটি নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে সুন্দরবনে।
এ নিয়ে চলতি (জুলাই) মাসের ২ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত ১৮ দিনে সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, মানুষের ওপর আক্রমণের উদ্দেশে নয়, মূলত খাবারের সন্ধানেই লোকালয়ে চলে আসছে এব সাপ।
ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানালেন, চলতি মাসেই ১০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যরে অজগর সাপ সাতটি, ৫ ফুটের পদ্মগোখরো একটি, ২ ফুটের কালনাগিনী একটি এবং ৩ ফুটের নির্বিষ ডোরা সাপ একটি। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সাপই বন বিভাগের মাধ্যমে আবার সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর শরীফ ও আব্দুর রহমান জানান, আগে এত সাপ গ্রামে আসতে দেখেননি তারা। এখন প্রয়ই সাপ উদ্ধারের খবর শোনা যাচ্ছে। বিশাল বিশাল অজগর আস্ত ছাগল, হাঁস-মুরগি গিলে খাচ্ছে। এতে বাড়ির শিশু এবং গৃহপালিত প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন তারা।
লোকালয়ে সাপ আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বললেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবন প্লাবিত হচ্ছে। এর কারণে সাপ ও বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল, খাদ্য সংকট এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাবার ও বসবাসের জন্য সাপ লোকালয়ে চলে আসছে।
এই পরিবেশবাদী নেতা উল্লেখ করেন, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখে। তাই সাপ না মেরে নিরাপদে তাদের আবাসস্থলে ফিরিয়ে দিতে হবে। সাপ ও বন্যাপ্রণী সংরক্ষণ এবং পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে বন বিভাগেরও আরো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এব্যাপারে পরিবেশ সংগঠনের পক্ষ থেকেও আমরা কাজ করছি।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরীফুল ইসলামের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব কিছুটা বেড়ে যায়। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় খাবারের সন্ধানে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য লোকালয়ে চলে যায় সাপ।
তিনি আরো বললেন, আগে মানুষ সাপ দেখলেই পিটিয়ে মেরে ফেলতো। কিন্তু এখন সাপ না মেরে বন বিভাগ ও প্রশিক্ষিত উদ্ধাকারীদের খবর দেয়। অনেক সময় তারা নিজেরাও উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে পৌছে দেয়।। সাপ পরিবেশের জন্য উপকারী। এদের রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। তবেই রক্ষা হবে পরিবেশের ভারসাম্য।





