বালিয়াকান্দি
সিজারের পর দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
‘দুই মাসের সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব, আরও দুই ছোট ছেলে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়লাম’—স্ত্রীকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির অশান্ত মন্ডল।
ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে গত জুনে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তন জন্ম দেন তার স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)। পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখেই করা হয় সেলাই। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আনা হয় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানে গতকাল রাতে মারা যান তিন সন্তানের মা কনিকা।
এ ঘটনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এসেছে, তিনি খোঁজ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে বাড়ি অশান্ত ও কনিকার। অশান্ত জানান, গত ২৯ জুন সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কনিকা। পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ পাওয়া যায়। সেদিনও অপারেশন করে তা বের করা হয়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মৃত্যু হয় কনিকার।
স্ত্রীকে হারিয়ে অশান্ত বলেন, ‘এখন আমি দেড় মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আরও দুইটা ছোট ছেলে আছে... আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি, সন্তানগুলো মাকে হারিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত চিকিৎসকের বিচার চাই।’
অশান্ত জানালেন, ডা. লক্ষী রানী হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়ে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন- ‘ভুল মানুষেরই হয়। অনেক ঝামেলার ভেতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি।’
এ বিষয়ে জানতে লক্ষী রানীকে কল করা হলে তার কথা, ‘আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি’। আবারও যোগাযোগ করা হলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘চিকিৎসক অসুস্থ, কথা বলতে পারবেন না।’
অশান্ত মণ্ডলের ভাই সমীর মণ্ডল বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রীর অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে আসি। কিন্তু আমরা তো জানতামই না, তার পেটের ভেতর গজ রয়ে গেছে। ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি দেখতে পান।’
‘এখন আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, মামলা যা যা করা প্রয়োজন, সবই করতে হবে। চিকিৎসার নামে মানুষের জীবন নিয়ে এ ধরনের অবহেলা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না’- বললেন সমীর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’




