ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ আরও ভয়াবহ পরাজয় ডেকে আনবে, দাবি আরাকচির

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ফাইল ছবি / রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এর কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য ‘আরও ভয়াবহ পরাজয়’ ডেকে আনবে এবং ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও বাড়াবে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাকচি বলেছেন, ‘তথাকথিত “অর্থনৈতিক ডি-ডে” যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। দেশটি নজিরবিহীন ঋণ ও বাড়তে থাকা সুদের খরচের মুখে রয়েছে।’
ডি-ডে শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৪ সালের ৬ জুন নরম্যান্ডিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনীর বড় সামরিক অভিযান শুরুর দিনকে বোঝায়। অর্থাৎ, কোনো বড় ও নির্ণায়ক অভিযান শুরুর দিন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ব্যর্থ নীতিতে আরও জোর দেওয়া শুধু আরও পরাজয় এবং ইরানিদের মধ্যে শত্রুতা বাড়াবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বিশ্ব অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরাকচির এই মন্তব্য এক দিন আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণার পর এসেছে। ট্রাম্প এটিকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন মাত্রার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে সহায়তা করা আর্থিক ও বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করতে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে মিত্র দেশগুলোকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘ভুল হিসাব করা হয়েছে।’
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এটি আড়াল করতে তাদের প্রতিবার নিজেদের জন্য আরও বড় পরাজয় তৈরি করতে হচ্ছে। সামরিক যুদ্ধ কাজ করেনি। তাই এখন পরবর্তী ব্যর্থতার নাম দেওয়া হয়েছে “অর্থনৈতিক যুদ্ধ”।’
এদিকে ইরান এখনো অস্ত্র উৎপাদন করছে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সারদার মোহেবি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
মোহেবি বলেছেন, আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা আগের যুদ্ধগুলোতে ব্যবহৃত অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি। আবার যুদ্ধ শুরু হলে সব দিক থেকেই ইরানের অস্ত্র আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
তিনি আরও বলেছেন, নতুন অস্ত্রের মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের ওয়ারহেড থাকবে। এগুলোর নিখুঁততা ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বেশি হবে।
সূত্র : আলজাজিরা







