অভয়নগর
১০৬ বছরের ছব্দুল গাজীর পাশে ইউএনও, মিলল জরুরি ত্রাণ

ছবি: আগামীর সময়
বয়স ১০৬ বছর। অথচ এই বয়সেও জীবিকার তাগিদে হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙতে হয় ছব্দুল গাজীকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে ওঠেন, কানেও ঠিকমতো শোনেন না। তবু থেমে নেই জীবনসংগ্রাম। শতবর্ষী এই বৃদ্ধের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু।
তাৎক্ষণিকভাবে তার হাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বয়স্কভাতা চালু এবং নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
ছব্দুল গাজী অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের মৃত হারান গাজীর ছেলে। বহু বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন। পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে মারা গেছেন, বেঁচে আছেন তিন মেয়ে। বর্তমানে মৃত ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি।
গত ১২ বছর ধরে ইট ভেঙে সংসারের খরচ জোগাতে হচ্ছে তাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। অথচ বয়সের কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করার সামর্থ্য নেই। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তার বয়স্কভাতাও।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে ছব্দুল গাজীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ইউএনও শেখ সালাউদ্দীন দিপুর। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও।
সহায়তার বিষয়ে ইউএনও শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, ছব্দুল গাজীর বন্ধ হয়ে যাওয়া বয়স্কভাতা দ্রুত পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নওয়াপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি মাসে তাকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ছব্দুল গাজী বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার ছবি তুলেছিল। তারপর ইউএনও সাহেব আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার অফিসে এনে সাহায্য করেছেন। আল্লাহর কাছে উনাদের সকলের জন্য দোয়া করি।’



