পতিসরে কাচারি বাড়িতে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ

কাচারি বাড়ির আঙিনা
বাংলা সাহিত্যের রাজটীকা পরিহিত কবি রবীন্দ্রনাথ। তিনি প্রেম ও ভালোবাসার কবি, কবিদের কবি। দুঃখ, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবতার বোধে তিনি আজও বাঙালির হৃদয়ে জীবন্ত।
বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির আঙিনা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কাছারিবাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৮৯১ সালে জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবার পতিসরে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বারবার ছুটে এসেছেন এই কাছারিবাড়িতে। এখানকার নাগর নদ, সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি, কৃষক ও সহজ-সরল প্রজাদের জীবনসংগ্রাম এবং গ্রামীণ জনপদের সুখ-দুঃখ তার সাহিত্যচর্চাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
পতিসরে বসেই তিনি রচনা করেন অসংখ্য কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ, যা বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বকবির জন্মোৎসব ঘিরে এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পতিসরে ছুটে আসেন সংস্কৃতিপ্রেমী ও রবীন্দ্রভক্তরা। দিনজুড়ে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। সুর ও কবিতার মূর্ছনায় প্রাণ ফিরে পায় ঐতিহ্যবাহী পতিসর।
পতিসরে আসা সংস্কৃতিকর্মীদের ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন, তিনি বাঙালির আত্মার অংশ। কবিগুরুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই ২৫ বৈশাখে ভক্তরা এখানে ছুটে আসেন।
নওগাঁ সরকারি বিএমসি কলেজের শিক্ষার্থী আনহিকা উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথকে বইয়ের পাতায় পড়েছি, গানেও শুনেছি। পতিসরে এসে তার জীবন ও কর্মের সঙ্গে এই মাটির সম্পর্ক আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারছি। এবারের আয়োজন বর্ণিল ও মনোমুগ্ধকর।
আলোচনা সভার বক্তারা উল্লেখ করেন, অনিশ্চয়তার সময়েও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে আছে। পতিসরের মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে তার যে আত্মিক সম্পর্ক ছিল, তা বারবার প্রতিফলিত হয়েছে তার সৃষ্টিতে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।




