সরকারি খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে তোড়জোড়, তদন্তে প্রশাসন

খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে তোড়জোড়। ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সেই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে একই স্থানে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের আগের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কের ১ নম্বর খতিয়ানের ৩৪ নম্বর দাগভুক্ত সরকারি জমিতে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সে সময় আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনের বরাত দিয়ে জানান, সংশ্লিষ্ট জমি সরকারি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানা জায়গাটি পরিমাপ করে নির্ধারণ করেন সরকারি জমির সীমানা। একাধিকবার স্থানটি পরিদর্শন করেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও। এরপর প্রায় ১৮ মাস নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি একই স্থানে আবারও বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, সরকারি জমিতে পুনরায় নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ভবনের মালিক ইসমাইল মিয়ার দাবি, ‘গত দুই-আড়াই মাস আগে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার এসে জায়গা মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এরপর নির্মাণকাজ শুরু করেছি আমি।’
আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানা জায়গাটি মেপে সীমানা নির্ধারণ করেছেন। স্যার যখন দিয়েছেন, এখন আর মন্তব্য করে কী লাভ।’
এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




