নেত্রকোনায় গভীর রাতে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। শহরের মগরা নদীর তীরে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশে জয়নগর এলাকায় অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে এসে স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগানোর পর তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিন যুবক স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার পর স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে চলে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের কিছু অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধাতব কাঠামোর স্মৃতিস্তম্ভটির বিভিন্ন স্থানে আগুনের দাগ স্পষ্ট। এ সময় চারপাশে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও দেখা যায়। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত নাশকতা বলে মন্তব্য করেছেন।
এ্ই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক প্রীতম সোহাগ জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বায়ান্ন, একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের মুক্তিযোদ্ধা বা শহিদরা ভাস্কর্যে থাকে না। তারা মানুষের অন্তরে বাস করে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ একটি প্রতীকী বস্তু। স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরাতে পারলেও মানুষের হৃদয়ে তা পারবেনা। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাইয়ের উপর এমন বর্বরতা ব্যতীত হয়েছি। জুলাইয়ের পরাজিত শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে জুলাইয়ের পক্ষের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া একটি সংগঠনের এমন সহিংসতা উদ্বেগজনক। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের চিরাচরিত স্বভাবের জানান দিচ্ছে। আশা করি প্রশাসন খুব দ্রুত এদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিতে নিহত নেত্রকোনার ১৭ জন শহীদের স্মরণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে এটি শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।




