উখিয়ায় লোকালয়ে বার্মিজ অজগর, বনে অবমুক্ত

দুটি বার্মিজ অজগর বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে— সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লোকালয় থেকে দুটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। পৃথক দুটি স্থান থেকে উদ্ধার করা অজগর দুটি পরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে। টানা বর্ষণের মধ্যে লোকালয়ে সাপের উপস্থিতিতে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বনবিভাগের দ্রুত পদক্ষেপে প্রাণীগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ক্লাসপাড়া এলাকায় ফয়েজ উদ্দিনের বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর দেখতে পান স্থানীয়রা। বিশাল আকৃতির সাপটি দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মুনীর আহমদের সহযোগিতায় বনবিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।
এর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে উখিয়ার বর্ধিত ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি কার্যালয় এলাকা থেকে আরও একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বনবিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
একই দিন দুপুরে উদ্ধার করা দুটি অজগর থাইংখালী বিটের গহীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি এবং বনবিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহিনুর ইসলাম বললেন, ‘হলদিয়াপালং বিট ও সদর বিট এলাকা থেকে লোকালয়ে চলে আসা দুটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করে নিরাপদে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘সাপ আমাদের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোথাও সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে বা না বুঝে সেটিকে হত্যা না করে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
বনবিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেন, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের সন্ধান এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনবিভাগকে দ্রুত অবহিত করা হলে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্তব্য করেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রাণহানি ও বন্যপ্রাণী হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’





