টেকনাফে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি ৪ তরুণ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে রাখা চার তরুণকে উদ্ধার করেছে র্যাব ও পুলিশ। অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পাহাড়ি জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে পৃথক ঘটনায় অপহৃত পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামালের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে র্যাব-১৫ ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চার তরুণকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফেনীর দাগনভূঞার গণিপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), একই এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. এমাম হোসেন (১৮), ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) এবং হবিগঞ্জের বাহুবলের নোয়াঐ এলাকার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, গত ২৬ জুন ফেনী থেকে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান ও তহিদুল ইসলাম তামিম। পরে ২৮ জুন এ ঘটনায় ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর র্যাব-১৫-এর গোয়েন্দা দল তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায়, নিখোঁজ দুই তরুণ টেকনাফের একটি পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন।
তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালান। চারদিক থেকে পাহাড় ঘিরে ফেলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে চার তরুণকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে চারজনকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন র্যাবের সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক। তিনি আরও জানান, অপহরণচক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় র্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে টেকনাফে অপহরণের আরেকটি ঘটনায় উদ্বেগ কাটেনি। গত ২৮ জুন দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া জুম্মাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামালের (৬৫) এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালিয়া জুম্মাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছেন।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ বলেছেন, ‘অপহৃত চিকিৎসককে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। তাকে জীবিত উদ্ধারে সব ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত।’





