গাংনীতে শিয়াল আতঙ্ক, নারী-শিশুসহ আহত ১৪

শিয়ালের আক্রমণে আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা ও মাইলমারী গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় তারা আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজন মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার বিকেলে হিন্দা গ্রামের রেজাউল হকের বাড়িতে একটি শিয়াল ঢুকে পড়ে। এ সময় রেজাউল হকের স্ত্রী আমিরন খাতুন শিয়ালটিকে তাড়াতে গেলে তার হাতে কামড় দেয়। মাকে রক্ষা করতে মেয়ে আরশুনা এগিয়ে এলে তাকেও কামড় দেয়। পরে শিয়ালটি বাড়ি থেকে বের হয়ে আশপাশে যাদের সামনে পেয়েছে, তাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে ওই গ্রামের অন্তত ১২ জন আহত হন।
হিন্দা গ্রামে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- মুতার মণ্ডলের মেয়ে বাছিরন (৭৫), লুৎফর হোসেনের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪৮), রেজাউল হকের স্ত্রী আমিরন খাতুন (৫০), রেজাউলের মেয়ে আরশুনা (৩০), আব্বাসের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৮) এবং জেরিন (১৬)। এ ছাড়া একই গ্রামের আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় মাইলমারী গ্রামের ধলা এলাকায় শিয়ালের কামড়ে দুজন আহত হন। তারা হলেন- নুরুল ইসলামের ছেলে বিএনপি নেতা জাফর এবং গোলাম হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেক (৪৫)।
মাইলমারী গ্রামের আবু জাফর বলেন, ‘মাইলমারী বিলের ধারে আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম। এ সময় মাঠের দিক থেকে হঠাৎ একটি শিয়াল আমাদের কাছে চলে আসে। পেছনে তাকিয়ে দেখি, শিয়ালটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি আমাকে আক্রমণ করে এবং মুখে কামড় দেয়। আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা আব্দুল খালেকও শিয়ালের কামড়ে আহত হন।’
হিন্দা গ্রামের আহত আমিরন খাতুন বলেন, ‘হঠাৎ বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে শিয়ালটি। সেটিকে তাড়াতে গেলে আমার হাতে কামড় দেয়। পরে আমার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও কামড়ায়। এরপর শিয়ালটি বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় দিয়েছে।’
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল রানা জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের র্যাবিসের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।



