প্রাচ্যের ভেনিসে গাছে গাছে ‘আগুন’

ছবি: আগামীর সময়
‘প্রেমের নগরী’ ভেনিসে এখন কোন ঋতু? সব জান্তা গুগলে টাইপ করতেই এর এআই উত্তর দিল- সেখানে নাকি চলছে আগাম বসন্ত। ঠিক এসময় প্রাচ্যের ভেনিসেও গাছে গাছে ফুটেছে ফাল্গুনের ‘আগুন ফুল’।
চারদিক খালে ঘেরা ইতালির ওই ‘সিটি অব লাভকে’ ভাসমান শহরও বলা হয়। ঠিক যেমন বরিশাল। এখানকার খাল ও নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ উপাধি দেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
সেই সৌন্দর্যে বসন্ত ছোঁয়াতে যেন সাজছে বরিশাল নগরী। বিভিন্ন সড়কের গাছে গাছে ফুটছে ‘আগুন ফুল’ পলাশ। সমানতালে চোখ ধাঁধাচ্ছে শিমুল, বাগানবিলাসও।
নগরীর ব্রজমোহন কলেজ, সিএন্ডবি রোড, বাঁধ রোড, রাজা বাহাদুর সড়ক, ঈদগার সামনে, বেলস পার্ক, কাঞ্চন উদ্যান, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক ঘুরলেই মিলছে বার্তা- এসেছে ফাল্গুন।
বিকেলের অপেক্ষা না করে প্রায় প্রতিদিন তপ্ত দুপুরেই ফুল দেখতে বেরিয়ে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ফেসবুকে সেই আপডেট না দিলে কী চলে! ফুলগাছের সামনে তাই ছবি তোলার হিড়িক।
প্রকৃতিপ্রেমী মইনুল ইসলাম তুফান তাদের একজন। বললেন তার অনুভূতি।
‘বরিশালের যেকোনো সড়ক ধরে হাঁটবেন আপনি। দেখবেন বাগানবিলাস ফুল ফুটে রয়েছে। বাড়ির মধ্যে থেকেই যেন উঁকি দিচ্ছে। এছাড়াও নানা রঙের ফুলে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বরিশালজুড়ে ঢলে পড়েছে বলে মনে হবে।’
ব্রজমোহন কলেজে ঢুকতেই মনে হবে পলাশ আর বাগানবিলাস যেন মিলেমিশে একাকার। বিকেল হলেই সেখানে হাঁটতে বের হন কান্তা বিশ্বাস।
‘বসন্ত এলেই মনের মধ্যে যেন প্রেম প্রস্ফুটিত হয়। এত ফুলের ভিড়ে প্রকৃতি আর আবহাওয়াই যেন রঙ পাল্টে ফেলেছে। ফুল দেখতে কার না ভালো লাগে, ফুলের প্রেমে পড়ে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়’- মুগ্ধতা এভাবেই প্রকাশ করলেন তিনি।
মল্লিক রোডে থাকেন লিপিকা রহমান। তার মত, ‘বসন্ত ভালোবাসার প্রতীক। ফেসবুকে এবার শহরের ছবি দেখে শুক্রবারই প্যাডেল রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। বসন্তের আগুনের ছোঁয়া দেখেছি পথে পথে। এ দৃশ্য দেখলে বিমোহিত হবে যে কেউ।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাগুলো যেন ছেয়ে রেখেছে আগুনফুল। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও এর রূপ টেনে আনছে দর্শনার্থীদের।
‘গাছগুলোর নিচ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হবে পলাশে ছেয়ে আছি। পলাশের গাঢ় কমলা রঙে মনের রঙও রঙিন হয়ে ওঠে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করছে তা না, বরিশাল নগরী ও ঝালকাঠি থেকেও ফুলপ্রেমীরা আসছে ক্যাম্পাসে’- বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদ আহনাফ।
নগরীর বিএডিসি ভবন এবং সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে দেয়ালগুলো ঢেকে গেছে বাগানবিলাসে। এসব দেয়াল এখন তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যাকগ্রাউন্ড। অন্যদিকে কীর্তণখোলা নদীতীরের মুক্তিযোদ্ধা পার্কের বোতলব্রাশ গাছে ঝুলছে লাল ফুলের ঝাড়। আর রাজাবাহাদুর সড়কে রঙিন গাছের ছায়ায় আপনমনে হাঁটতে দেখা গেছে অনেককে।
কবি জীবনানন্দ দাশ তার জন্মস্থানের সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়েই লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত ‘রূপসী বাংলা’। শহরে বসন্তের রূপ বাড়িয়ে তুলতে সিটি করপোরেশন আরও বাহারি গাছ লাগানোর এবং যথাযথ পরিচর্যার উদ্যোগ নেবে- এমন দাবি এসেছে ফুলপ্রেমীদের থেকে।



