সুন্দরগঞ্জে আমন চাষে খরচ বাড়াচ্ছে কচুরিপানা

ছবি: আগামীর সময়
হাঁটুসমান কচুরিপানা টেনে একপাশে জড়ো করছিলেন কৃষক জলিল। কিছুক্ষণ পরপর কপালের ঘাম মুছে আবার কাজে মন দিচ্ছিলেন তিনি। জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু চাষের আগে কচুরিপানা না সরালে নামানো যাবে না পাওয়ার ট্রিলার। তাই ধান লাগানোর আগেই বাড়তি শ্রম ও খরচের হিসাব কষতে হচ্ছে তাকে।
হতাশা নিয়ে জলিল জানালেন, ধান ফলানোর আগেই খরচ শুরু হয়ে গেছে। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে শ্রমিক লাগছে, এরপর জমি চাষের খরচ আছে। ধানের দাম ভালো না হলে এই বাড়তি খরচ কীভাবে উঠবে, সেটাই চিন্তা।
শুধু আবদুল জলিল নন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার খাল-বিল ও নিচু এলাকার অনেক কৃষকের একই অবস্থা। বর্ষার পানি কমে এলেও ছোট-বড় খাল-বিল ও নিচু জমিতে পড়ে আছে কচুরিপানা। কোথাও তা জমির বড় অংশ ঢেকে রেখেছে, কোথাও আবার জমির আইল ও পানি নিষ্কাশনের নালায় আটকে আছে। আমন আবাদ শুরু করতে গিয়ে এসব কচুরিপানা সরানোই এখন কৃষকের বাড়তি বিড়ম্বনা। এতে আমন আবাদ শুরুর আগেই বেড়ে যাচ্ছে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়।
একই কথা বলেছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা। তার দাবি, আমন আবাদে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই ব্যয় হয়। এর সঙ্গে কচুরিপানা অপসারণের খরচ যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। প্রতি বিঘা জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে শ্রমিক লাগছে দুই-তিনজন। তাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ১৫০০-২০০০ টাকা। ফসল লাগানোর আগেই কৃষকের খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা বেশি চাপে পড়েছেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মোজাম্মেলের ভাষায়, ‘ধান চাষে আগে থেকেই খরচ বেশি। এখন আবার কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। নিজেরা করলে সময় লাগে, শ্রমিক নিলে বাড়তি টাকা লাগে। ধান বিক্রি করে এই খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।’
কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে ৩০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কচুরিপানার আধিক্যের কারণে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কচুরিপানাকে শুধু আগাছা হিসেবে না দেখে জৈব উপাদান হিসেবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কচুরিপানা পচিয়ে তৈরি জৈব সার জমিতে ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা ও জৈব গুণাগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, কচুরিপানা থেকে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। এ সার জমিতে ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বাড়ার পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমানো সম্ভব।






