ভাসমান ধানের সঙ্গে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

ছবি: আগামীর সময়
প্রতি বিঘা বিশ হাজার টাকা করে হাড়িতে (লীজ) নেওয়া পাঁচ বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ করেছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল রহমান। ভালো ফলনের আশায় বেশ খুশিই ছিলেন তিনি। কয়েকদিন আগেই ধান কেটে আটি বাঁধার জন্য জমিতে ছোট ছোট ভাগে সাজিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই কাটা ধান এখন পানিতে ভাসছে। ভাসমান ধানের সঙ্গে যেন ভেসে যাচ্ছে তার স্বপ্নও।
স্বপ্ন বাঁচাতে মলিন মুখে পানিতে ভাসা ধান মুঠো মুঠো করে তুলে উঁচু জমিতে এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন আমিনুল। ঋণের টাকা আর সারা বছরের পরিশ্রম হারানোর ভয় তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শুধু আমিনুল রহমানই নন, খুলনার বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিনের বর্ষণে বিলে বিলে জমে থাকা পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য ধানক্ষেত। অনেক কৃষকের কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে। এতে করে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। অনেকেই এখন ঋণের বোঝা আরও বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে খুলনা মেট্রোসহ নয় উপজেলায় ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেছে। ইতোমধ্যে ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আর বাকি ৫২ শতাংশ এখনও কাটার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কাটা ধানের অন্তত ৫ শতাংশ পানিতে ভিজে গেছে।
সাজিয়ারা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তার চার বিঘা জমির ধান এখনো পানিতে ভাসছে। আশপাশের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামছে না, ফলে বাধ্য হয়ে সেচ পাম্প ব্যবহার করে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তেরখাদা উপজেলার পানতিতা গ্রামের কৃষক রুহেল মোল্লা। বললেন, ‘আট বিঘা জমির ধান কেটে শুকানোর জন্য বিলে রেখে দিয়েছিলেন কিন্তু নিচু জমির ধান বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।’
তবে আজ শনিবারের রোদে কিছুটা পানি কমেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। অল্প বৃষ্টিতেই খাল-বিলে পানি জমে যাচ্ছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাটা ধানের একটি অংশ ভিজে গেছে। তবে কৃষকরা ভাসমান ধান ঘেরের আইল ও উঁচু জমিতে তুলে রক্ষার চেষ্টা করছেন।’



