শক্তিশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ৩৪ পুকুরের ইজারা

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রুদ্রপুকুর একসময় মাত্র তিন হাজার টাকায় ইজারা দিত জেলা পরিষদ। সাম্প্রতিক তৃতীয় দফার দরপত্রে সেই পুকুরের দর উঠেছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, প্রায় ৩৬ গুণ বেশি। একইভাবে দক্ষিণ সাঙ্গর পুকুরের ইজারা ১৪ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং পাইকপাড়ার পুকুর ৯ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫৫২ টাকা।
এ অবস্থায় বাস্তবসম্মত দর নিশ্চিত করতে ৯টি পুকুরের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে জেলা পরিষদ। যার মধ্যে আটটি পুকুরের সরকারি ইজারামূল্য ৩ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা। প্রথম দফায় ৯টির মধ্যে ছয়টি পুকুরের মোট দর দাঁড়ায় ৩ লাখ ২ হাজার ৩০০ টাকা। দ্বিতীয় দফার দরপত্রে সাতটির জন্য দর হয় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৬ টাকা। পরে তৃতীয় দফার দরপত্রে আটটি পুকুরের জন্য তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ টাকায়।
৯টি পুকুরের মধ্যে দুটির জন্য সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দরদাতা/ইজারা গ্রহীতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকিগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে।
জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, তাদের আওতাধীন ৩৪টি পুকুর এতদিন এভাবেই নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হতো। একটি প্রভাবশালী চক্র কম দরপত্র জমা দিয়ে প্রতিযোগিতা সীমিত রাখত। ফলে প্রকৃত বাজারমূল্য পাওয়া যেত না। এতে সরকার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো।
আহমেদ আলী মুকিব প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে ফের দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেন। বাস্তবসম্মত দর না পাওয়া পর্যন্ত একাধিক দফায় দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে সরকারের ন্যায্য রাজস্ব নিশ্চিত হয়।
ইজারার প্রক্রিয়ায় থাকা পুকুরগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাধবপুর, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলায় তিনটি করে এবং হবিগঞ্জ সদর ও বানিয়াচংয়ে অন্য দুটি।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কৃষ্ণ পাল জানান, মুক্তভাবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পুকুরের ইজারা মূল্য বাড়ছে। ৯টি পুকুরের ইজারা চূড়ান্ত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সব (৩৪টি) পুকুর সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দরে ইজারা দেওয়া হবে।
পুকুর ইজারায় সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর ঘটনায় পুরনো ইজারাদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যাচার করছেন বলেও জানান তিনি।



