বন্যাদুর্গতদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— সংগৃহীত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার সময় বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘আমি দেশের বাহিরে ছিলাম, যার কারণে সময় মতো আসতে পারিনি। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। শুক্রবার ও শনিবার সুযোগ পেয়ে আপনাদের দেখতে চলে আসলাম। সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
আজ শনিবার বিকালে মাতামুহুরীর কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও বন্যাদুর্গত এলাকায় পরিদর্শন শেষে মানুষের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
এর আগে চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৭টি স্থানে তিনি ত্রাণ বিতরণ করেন। বক্তব্য শেষ করার সময়ও তিনি পুনরায় বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা করে দিয়েছেন কীনা জানতে চান। তখন বন্যার্ত মানুষ হাত তুলে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে সায় দেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এই সংসদ সদস্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হামিদুল হক বললেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব এই আসনের বর্তমান সংসদ। তিনি বন্যার পর এলাকায় এসে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। দেরিতে আসায় ক্ষমা চেয়েছেন। মাপ চাওয়া মহৎ গুণ। তিনি তা করেছেন, সবার নজর কেড়েছেন। তিনি জনগণের মন জয় করতে জানেন। বলতে গেলে, তিনি একজন ম্যাজিকম্যান।’
লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাটের আব্দুর রহমান বলছিলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যার সময় এলাকায় ছিলেন না, এতে বন্যাদুর্গত মানুষ অনেক সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়েছে। তবে তিনি খোঁজখবর রেখেছিলেন, বন্যার্তদের পাশে থাকতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিদের্শনা দিয়েছিলেন।’
কোনখালীর মরংঘোনা গ্রামের রহিমা খাতুন মন্তব্য করেন, ‘সালাহউদ্দিন আমাদের ঘরের ছেলে। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ দিতে এসেছেন। বন্যার সময় আসতে পারেননি, তাই মাফও চেয়েছে। তিনি মাফ চাওয়ায় আমি না, সবাই খুশি হয়েছেন। সচরাচর একজন মন্ত্রী জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবে, এটা কল্পনা করা যায় না।’





