ফুলেল শ্রদ্ধায় রানা প্লাজায় নিহতদের স্মরণ

ছবি: আগামীর সময়
রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে চলছে নানা আয়োজন। এরমধ্যে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ওই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে তৈরি স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় ওই ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, নিহতদের স্বজন ও আহতরা রানা প্লাজার সামনে এসে ভিড় করেন। হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, বাংলাদেশের পতাকা ও কালো পতাকা। এ সময় স্বজন হারাদের আর্তনাদ ও আহতদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
রানা প্লাজার আহত ইয়াসমিন আক্তার বলেছেন, আমি রানা প্লাজার ৭ম তলায় পোশাক কারখানায় কাজ করতাম। রানা প্লাজার ভাঙনের দিনে আমার দু-পায়ের ওপরে একটি পিলার পড়ে যায়। সেদিন রাতে সেনাবাহিনী আমাকে উদ্ধার হাসপাতালে নিয়ে আসে। চার মাস আমি হাসপাতালে ছিলাম। তারপরে কয়েক বছর থেরাপি নিয়েছি। কিন্তু আজও সুস্থ হতে পারিনি।
অপরদিকে নিখোঁজ সুরুজের মা জেসনা বেগম বলেছেন, আমার ছেলে রানা প্লাজায় ফিনিসিং অপারেটর পদে চাকরি করত। রানা প্লাজায় ধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয় আমার ছেলে। আজও আমার ছেলেকে পাইনি খুঁজে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন লিটন জানিয়েছেন, রানা প্লাজায় আহত ও নিহতদের পরিবারের অনেকে দিন পার করছেন দুঃখ ও দুর্দশায়। অনেকেই রয়েছেন খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে।
স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো সংগঠনগুলো হচ্ছে-বাংলাদেশ তৃনমূল গামের্ন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, রেডিমেড গামের্ন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারশন, শহীদ রক্ষা কমিটি, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, ল্যাম্পপোস্ট, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্প পুলিশ প্রমুখ।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বহুতলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এতে নিহত হন এক হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক। এছাড়া আড়াইশর বেশি পোশাক শ্রমিক হয়ে পড়েছেন পঙ্গু।



