লোডশেডিংয়ে বরফসংকট
- সময়মতো সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও কুয়াকাটায় দেখা দিয়েছে তীব্র বরফসংকট। ১০ দিন ধরে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় বরফকলগুলোয় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে প্রয়োজনীয় বরফ না পেয়ে প্রস্তুতি শেষ করেও সময়মতো সাগরে যেতে পারছেন না শত শত মাছ ধরা ট্রলারের জেলে। পাশাপাশি সংরক্ষণের অভাবে কিছু ট্রলারের মাছ পচে নষ্ট হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩৬টি বরফকল। কোনো কোনো কল দিনে ২০-২৫ ক্যান, আবার বরফ উৎপাদন করে কোনোটি ২০০ ক্যান পর্যন্ত। তবে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে এখন অধিকাংশ কল স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় বরফের সরবরাহ কমে গেছে, বেড়েছে দামও।
বরফকল মালিকরা জানিয়েছেন, দিনে লোডশেডিং হচ্ছে ১২-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ এলেও আবার চলে যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কঠিন হয়ে পড়েছে যন্ত্রপাতি সচল রাখাও।
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলু গাজী বললেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বেশি দামে বরফ বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বরফকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এফবি আল্লাহ মালিক ট্রলারের মাঝি হারুন জানিয়েছেন, বরফের জন্য চার দিন ধরে ঘাটে বসে আছেন। পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় সাগরে যেতে পারেননি। এতে মাছ ধরার সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ট্রলার ঘাটে রাখার খরচও বাড়ছে।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মো. মজনুর দাবি, বরফ উৎপাদনের জন্য টানা বিদ্যুৎ প্রয়োজন; কিন্তু ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। তাই মৎস্যবন্দর ও কুয়াকাটার বরফকলগুলোয় আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা দরকার।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম বলেছেন, জ্বালানিসংকটের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। জ্বালানিসংকট কেটে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জেলেরা বলছেন, বরফসংকটের কারণে সাগরে যাওয়ার সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে মাছ ধরার দিন কমার পাশাপাশি বাড়ছে ট্রলার পরিচালনার খরচ। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উপকূলের মৎস্য খাত আরও সংকটে পড়তে পারে।




