গাড়িতে ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজার শহরে বিশেষ অভিযানে একটি প্রাইভেটকারের গোপন প্রকোষ্ঠ থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল আলম ওরফে ‘ইয়াবা ফরিদ’সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ফরিদুল আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল।
শনিবার সকালে কক্সবাজার শহরের ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার মফিজ উল্লাহ (৩৮) এবং কক্সবাজার শহরের এসএমপাড়া এলাকার কাসিপুর রহমান সারুপ (১৯)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি প্রাইভেটকারে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে পাচার করা হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে বাজারঘাটা-ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্দেহভাজন একটি মিতসুবিশি ল্যান্সার গাড়িকে থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তারা নিজেদের পরিচয় দিলেও যাত্রার উদ্দেশ্য ও গন্তব্য সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন।
প্রাথমিক তল্লাশিতে গাড়ির কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে এলে সেটিকে ঝিলংজা ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এলাকার একটি মোটর ওয়ার্কশপে নিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে গাড়ির নিচে সাইলেন্সার পাইপের ওপর বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে কালো টেপে মোড়ানো প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খুলে মোট ৬ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়।
রোববার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেওয়া ডিবি পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক পরিবহন ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবা নিজেদের হেফাজতে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মফিজ উল্লাহর বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। এছাড়া এই মাদক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারির আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার কথা বলে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ধরা পড়েন তিনি।
ঘটনার পর টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আলী চৌধুরী উল্লেখ করেন, ফরিদুল আলমের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মছিউর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর টেকনাফ ও কক্সবাজারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


